Image description

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তালাবদ্ধ একটি বসতঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। এতে ঘরের আসবাবপত্রসহ প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার মালামাল পুড়ে গেছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আদালতে মামলা করেছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১টা ৫০ মিনিটের দিকে নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের পাচক এলাকায়। এর আগে একই এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও খবর প্রকাশিত হয়।
মামলা ও ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, সোনিয়া আফরোজের মায়ের নামে পাচক এলাকায় ২৫ শতাংশ জমি রয়েছে। ওই জমির একাংশে চৌচালা টিনের একটি বসতঘর ছিল। জমির দখল নিয়ে প্রতিবেশী রাজিয়া বেগমের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তাদের বিরোধ চলে আসছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, রাজিয়া বেগম ওই জমির প্রায় ১৪ শতাংশ জোরপূর্বক দখলে নিয়ে দেয়াল নির্মাণ করেছেন। এ নিয়ে আদালতে দেওয়ানি ও উচ্ছেদ মামলা চলমান রয়েছে।
সোনিয়া আফরোজের দাবি, প্রায় ১৩ মাস ধরে তিনি ও তার মা বাড়িতে না থেকে শরীয়তপুর সদর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। এ কারণে ওই বসতঘরটি তালাবদ্ধ ছিল। গত ২৩ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে কয়েকজন ব্যক্তি তালাবদ্ধ ঘরটিতে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আগুনে ঘরের ভেতরে থাকা তিনটি সেগুন কাঠের খাট, একটি ড্রেসিং টেবিল, একটি পানির মোটর, দুটি সিলিং ফ্যান, একটি জিএমএস ড্রপ, একটি সোফাসেটসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র পুড়ে যায়। এতে প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের।
আগুন দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ঘটনার পর পুলিশও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। একটি প্রতিবেদনে ভোজেশ্বর পুলিশ ফাঁড়ির পক্ষ থেকে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে আগুন দেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা করার কথা জানানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী সোনিয়া আফরোজ অভিযোগ করেন, ঘটনার পর তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। তার দাবি, রাজিয়া বেগমের মেয়ের জামাই পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হওয়ায় তাদের অভিযোগ গ্রহণে গড়িমসি করা হয়েছে। পরে তিনি পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেন।
সোনিয়া আফরোজ বলেন, “আমাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। বাড়িটি দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ থাকার সুযোগ নিয়ে রাতের আঁধারে আগুন দেওয়া হয়েছে বলে আমরা মনে করছি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।”
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে রাজিয়া বেগমের বক্তব্য জানতে তার বাড়িতে গেলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে ভোজেশ্বর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জুবায়ের হোসেন বলেন, “অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ আমরা পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও তা গ্রহণ করা হয়নি—এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জুবায়ের হোসেন বলেন, তাদের কাছে এ ধরনের কোনো অভিযোগ করা হয়নি।
এসএ