Image description

‘দিল্লির শাসন বা ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ হবে না’—এমন হুঁশিয়ারি দিয়ে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করছে, বাংলার মাটিতে তাদের কোনো স্থান হবে না। একই সঙ্গে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় আলেম-ওলামাদের সম্পৃক্ত করার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেছেন, আগামীতে ঈদগাহ, বড় মসজিদ ও ধর্মীয় অনুদানের দায়িত্ব তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ আল্লাহর জমিন। দিল্লির ইশারায় যারা কাজ করছে তারা শয়তানের দোসর।’ যাদের হেডকোয়ার্টার দিল্লি, তাদের দিল্লিতে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সমালোচনা

বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্বশীলদের সমালোচনা করে মিজানুর রহমান মিনু বলেন, তারা ফ্যাসিস্ট সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করে গোপনে তাদের সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে এবং দেশের ভেতর থেকে ক্ষতি করেছে। ১৯৯৬ সালের ষড়যন্ত্রের মতো আগামী ডিসেম্বরেও একই ধরনের চক্রান্তের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ সময় মওদুদীকে ব্রিটিশদের তৈরি ও ভারতের দালাল হিসেবে আখ্যায়িত করেন ভূমিমন্ত্রী। মুসলমানদের বিভক্ত করার জন্যই তাকে তৈরি করা হয়েছিল দাবি করে তিনি বলেন, বাংলার মাটিতে তার কোনো স্থান হবে না।

নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান

আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে ভূমিমন্ত্রী বলেন, রাজশাহীতে মেয়র নির্বাচনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দলীয় নেতাকর্মীদের হাইকমান্ডের নির্দেশ মেনে ঐক্যবদ্ধভাবে মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান তিনি।

আলেম-ওলামাদের কল্যাণে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মিজানুর রহমান মিনু বলেন, যারা ধর্মকে ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বসে আছে, তাদের সরিয়ে আগামীতে ঈদগাহ, বড় মসজিদ ও ধর্মীয় অনুদানের দায়িত্ব আলেম-ওলামাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন এবং মন্ত্রী-এমপিরা চরম বিপদের সময় জনগণের পাশে থাকবেন বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নিরাপদ, স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন ভূমিমন্ত্রী।

‘গত ১৭ বছরের কর্মকাণ্ড ভুলে গেলে চলবে না’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পবা-মোহনপুরের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন বলেন, গত ১৭ বছরে যারা নির্যাতন চালিয়েছে এবং দেশকে অন্ধকারে নিমজ্জিত করেছে, তাদের কর্মকাণ্ড ভুলে গেলে চলবে না। একই সঙ্গে দলের ভেতরে কাদা ছোড়াছুড়ি ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ড থেকে নেতাকর্মীদের বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের নামে যারা ধর্মকে বিপথগামী করার চেষ্টা করে, তাদের চক্রান্ত এবং অন্যান্য অপশক্তির ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সঠিক পথ দেখাতে ওলামা দলের নেতাকর্মীদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান মিলন। শহীদ জিয়াউর রহমান, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে ওলামা দলকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন তিনি।

জাতীয়তাবাদী ওলামা দল রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা তাজউদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুঠিয়া-দুর্গাপুর আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এবং বন শিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুন, সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন এবং রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও রাজশাহী জেলা পরিষদ প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা।

ওলামা দল রাজশাহী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কাজী মোহাম্মদ নুরুল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ রানা, মহানগর ওলামা দলের আহ্বায়ক হাফেজ মোহাম্মদ আবেদ হাসান মুন্না, সদস্যসচিব হাফেজ ফরহাদুল ইসলাম পরাগ, পবা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ, রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি, সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম রবি এবং মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান জনিসহ ওলামা দল ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এসএ