দিঘলিয়ায় চরমপন্থী নেতা নাসিমকে গুলি করে হত্যা
৬ রাউন্ড গুলি ও ম্যাগজিন উদ্ধার
খুলনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থী সংগঠন পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল-জনযুদ্ধ) শীর্ষস্থানীয় আঞ্চলিক নেতা ও সাজাপ্রাপ্ত একাধিক মামলার আসামি নাসিমুল গণি ওরফে নাসিমকে (৫৫) দিনদুপুরে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে জেলার দিঘলিয়া উপজেলার ফরমাইশখানা এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে তৈয়বের উদ্দিনের চায়ের দোকানে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত নাসিম ফরমাইশখানা এলাকার মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ১১টা থেকে পৌনে ১২টার দিকে নাসিম নিজ বাড়ির পাশের চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় ভ্যানযোগে আসা দুই সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাঁকে লক্ষ্য করে অতর্কিত একাধিক গুলি বর্ষণ করে বীরদর্পে পালিয়ে যায়। এতে তাঁর মাথায় তিনটি গুলি বিদ্ধ হয়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দিঘলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাওলাদার সানওয়ার হোসাইন মাসুম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং তল্লাশি চালিয়ে ৬ রাউন্ড তাজা গুলি ও একটি গান ম্যাগজিন উদ্ধার করে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, চরমপন্থী নেতা নাসিমের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, অপহরণ, ডাকাত এবং অস্ত্র বেচাকেনাসহ এক ডজনেরও বেশি মামলা রয়েছে। আলোচিত গণেশ হত্যা মামলায় তাঁর ৩২ বছর এবং একটি অস্ত্র মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ রয়েছে। এছাড়া তিনি বিএনপি নেতা রিয়াজ শাহেদ হত্যা চেষ্টা, জাহিদ চেয়ারম্যান হত্যা, হুজি শহীদ, মুন্না ও ইকবাল হুজুর হত্যা মামলারও অন্যতম অভিযুক্ত আসামি।
২০০২ সালে গণেশ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারের পর জামিনে বের হয়ে টানা ২১ বছর ছদ্মবেশে পলাতক ছিলেন নাসিম। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি প্রথম দফার গ্রেপ্তারের পর আবার জামিনে বের হন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৮ জুন রাতে দিঘলিয়া থানা পুলিশ তাঁকে পুনরায় গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার পথে সহযোগীরা হামলা চালিয়ে তাঁকে ছিনিয়ে নেয়। তবে ৪ দিনের মাথায় ২২ জুন খুলনার মুজগুন্নি পার্ক এলাকা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ তাঁকে ফের গ্রেপ্তার করে। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি আবারও জামিনে মুক্ত ছিলেন।
খুলনা জেলার পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক জানান, নিহতের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্তে ৫টি হত্যা, ১টি অস্ত্র ও ১টি মারামারি মামলাসহ মোট ৭টি মামলার অফিশিয়াল রেকর্ড পাওয়া গেছে। তাঁর বিরুদ্ধে অন্যান্য অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান তিনি।
ডিআর




Comments