Image description

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে চলছে জোর প্রস্তুতি। আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া পাঁচ দিনব্যাপী এই উৎসবকে ঘিরে উপজেলার ৭৮টি পূজামণ্ডপে প্রতিমা নির্মাণ, মণ্ডপ সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। আগামী ২১ অক্টোবর বিকেলে বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবের।

ফটিকছড়ি উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর পুরো উপজেলায় মোট ৭৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ৫২টি স্থায়ী এবং ২৬টি অস্থায়ী মণ্ডপ রয়েছে। পাশাপাশি ভুজপুর থানার অধীনস্থ সুয়াবিল ইউনিয়নের সাতটি পূজামণ্ডপও ফটিকছড়ি উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সার্বিক পূজার আয়োজন সম্পন্ন করবে।

বর্তমানে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে প্রতিমা গড়ার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে এনেছেন মৃৎশিল্পীরা। নির্ধারিত সময়ের আগেই তুলির শেষ আঁচড় ও আনুষঙ্গিক সাজসজ্জার কাজ শেষ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে মণ্ডপগুলোতে চলছে আকর্ষণীয় প্যান্ডেল নির্মাণ ও আলোকসজ্জার প্রস্তুতি।

এদিকে দুর্গাপূজা সার্বিক নিরাপত্তা, শান্তি ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে ফটিকছড়ি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৪ অক্টোবর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ফটিকছড়ি আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি পূজাকালীন সময়ে উপজেলার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সকল সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রতন কান্তি চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক ধনঞ্জয় দেবনাথ জানান, পূজা উৎসবমুখর করতে প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। প্রতিমা মণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের পাশাপাশি নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক টিমও মোতায়েন থাকবে।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান জানান, উপজেলার প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশ ও আনসার-ভিডিপি সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর নজরদারিতে থাকবে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্মিলিত সহযোগিতায় ফটিকছড়িতে সম্প্রীতি ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হবে।

ডিআর