Image description

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে আমন ধানের পাতায় পোড়া রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। উপজেলার একটি-দুটি এলাকায় নয়, ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় ধানের জমিতে একই ধরনের রোগের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। এতে ধানের ফলন নিয়ে উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তাঁরা।

সোমবার (৫ অক্টোবর) উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনেক ধানের জমিতে পাতার আগা ও কিনারা হলদে-বাদামি হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। কোনো কোনো জমিতে আক্রান্ত পাতার বড় অংশ শুকিয়ে পাতা পুড়ে যাওয়ার মতো দেখাচ্ছে। স্থানীয় কৃষকেরা জানান, প্রথমে পাতার কিছু অংশ বিবর্ণ হয়ে যায়। পরে ধীরে ধীরে পাতার আগা ও কিনারা শুকিয়ে যায় এবং আক্রান্ত গাছ দুর্বল হয়ে পড়ছে।

উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের সরাই হাজীপুর মৌজায় প্রায় ১০ বিঘা জমির ধান আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। সরেজমিনে সেখানে কৃষক আলামিন খান ও মো. আবুল হাসেমের জমিতেও রোগের লক্ষণ দেখা যায়। আলামিন খানের চার বিঘা এবং আবুল হাসেমের চার বিঘা জমির ধান আক্রান্ত হয়েছে বলে তাঁরা জানান।

কৃষক আলামিন খান বলেন, “ধানের গাছ ভালোই ছিল। হঠাৎ করে পাতার আগা শুকাতে শুরু করে। পরে ধীরে ধীরে অনেকটা জমিতে একই অবস্থা হয়েছে। এখন কীভাবে রোগটি নিয়ন্ত্রণ করব, তা নিয়ে চিন্তায় আছি।”

আরেক কৃষক মো. আবুল হাসেম বলেন, “আমার প্রায় চার বিঘা জমির ধানে রোগ দেখা দিয়েছে। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছি। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা প্রয়োজন।”

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, রায়গঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার ধানের জমিতেও একই ধরনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। রোগটির প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়ায় তাঁদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। দ্রুত রোগ শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

চান্দাইকোনা ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত হোসেন বলেন, “বিষয়টি আমি অবগত নই। ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিনে দেখে বিস্তারিত জানাব।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, “ধানের জমিতে এ ধরনের রোগের লক্ষণ দেখা দিলে সরেজমিনে পরিদর্শন করে রোগটি শনাক্ত করা প্রয়োজন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আক্রান্ত জমির কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হবে। পাশাপাশি রোগটি যাতে অন্য জমিতে ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে কৃষকদের সতর্ক করা হবে।”

কৃষকেরা জানান, আমন মৌসুমের ধান তাঁদের অন্যতম প্রধান ফসল। এ সময়ে জমিতে রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা দ্রুত উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আক্রান্ত জমি পরিদর্শন করে রোগের কারণ শনাক্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

এসএ