Image description

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ঐতিহ্যবাহী নীল-সাদা জার্সিতে অবশেষে ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি খেলে ফেললেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলের হারে টানা দ্বিতীয় বিশ্বশিরোপা জয়ের স্বপ্ন ভঙ্গের পর ছড়িয়ে পড়া নানা ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ নিয়ে এতদিন নীরব থাকলেও, আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর রাতে অবশেষে মুখ খুললেন ফুটবলের এই বিশ্বজয়ী রাজপুত্র।

বিশ্বকাপ পরবর্তী ফিফার নির্ধারিত প্রথম আন্তর্জাতিক উইন্ডোতেই মেসির বিদায়ি ম্যাচের বর্ণিল আয়োজন করে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। বুয়েন্স আয়ার্সের ঐতিহ্যবাহী এস্তাদিও মনুমেন্তালে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে আফ্রিকান দেশ বেনিনকে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারায় লিওনেল স্কালোনির দল।

নিজের শেষ ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে রাখতে এক দুর্দান্ত গোল ও জোড়া অ্যাসিস্টের মাধ্যমে বিদায়ের আমেজ বহুগুণ বাড়িয়ে দেন মহাতারকা নিজে। মেসি ছাড়া বিদায়ী ম্যাচে অন্য দুটি গোল করেন দল থেকে বিদায় নেওয়া অপর অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দি এবং তরুণ ফুটবলার নিকো পাজ।

মঙ্গলবারের এই বিশেষ রাতে মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে মেসির আবেগঘন ভাষণ শোনার সময় গ্যালারির হাজার হাজার অশ্রুসিক্ত সমর্থক এবং সতীর্থ এনজো ফার্নান্দেজ কাঁদলেও, মেসি ছিলেন অত্যন্ত শান্ত ও সংযত।

বিদায়বেলায় নিজের স্বভাবজাত বাগ্মিতা ও দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের পরিচয় দিয়ে মেসি বলেন, "আমার মন চায় আমি চিরকাল এই জার্সিতে এখানে থেকে যাই। তবে আমার মনে হচ্ছে বিদায় জানানোর জন্য এটাই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। শেষ বিশ্বকাপটা আমার জন্য সত্যিই ভীষণ কঠিন ও মানসিক চাপের ছিল। আমরা আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন বুকে লালন করেছিলাম এবং সেই ট্রফির একদম কাছাকাছি চলেও গিয়েছিলাম।"

ফাইনালের হার ও গুজবের বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে এলএমটেন বলেন, "বাস্তবতা হলো, কিছু মানুষ যেভাবে কাল্পনিক কথা বা অস্বাভাবিক ষড়যন্ত্র ছড়াচ্ছেন, বাস্তবে তেমন কিছুই ঘটেনি। আমরা মাঠে নিজেদের শতভাগ উজাড় করে দিয়েছিলাম। বিশেষ করে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচটি আমাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রচণ্ড ক্লান্ত ও নিঃশেষ করে দিয়েছিল। সেই চরম ধকল সামলে নিয়েই কোনোমতে আমরা ফাইনালে নেমেছিলাম।"

ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে জাতীয় দলকে ঘিরে বাইরের সব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সতীর্থদের ঐক্যবদ্ধ থাকার শক্ত বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ফুটবলারদের কঠিন সময় মোকাবিলার দিকনির্দেশনা দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলের রঙিন অধ্যায়ের ইতি টানলেন ফুটবলের এই মহানায়ক।

ডিআর