Image description

রাজবাড়ীর পাংশায় বিয়ের প্রলোভনে এক তালাকপ্রাপ্তা নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় ফারুক হোসেন (৪০) নামের এক পলাতক আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আসামিকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং সেই টাকা ভুক্তভোগী নারীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া সন্তানের বয়স ২১ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তার যাবতীয় ভরণপোষণের ব্যয়ভার রাষ্ট্র বহন করবে বলে যুগান্তকারী এক রায় দিয়েছেন আদালত।

রোববার (১১ অক্টোবর) রাজবাড়ীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. তহিদুল ইসলাম আসামির অনুপস্থিতিতে এ ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ফারুক হোসেন পাংশা উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের আহম্মদ খাঁর ছেলে। তবে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকেই আসামি পলাতক রয়েছেন।

নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মোছা. রেখা খাতুন একজন তালাকপ্রাপ্তা নারী। প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে ফারুক হোসেন তাকে দীর্ঘদিন ধরে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। ২০১৮ সালের ৩০ মে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে রেখাকে কুষ্টিয়ার খোকসা রেলস্টেশন সংলগ্ন আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন ফারুক। পরবর্তীতে ঢাকায় নিয়ে টানা দুই মাস এক বাসায় আটকে রেখে শারীরিক সম্পর্ক বজায় রাখেন।

একপর্যায়ে রেখা খাতুন অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে এবং বিয়ের রেজিস্ট্রি করার তাগিদ দিলে ফারুক বিয়ের কথা অস্বীকার করেন এবং তাঁর ওপর অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালান। ২০১৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে এসে রেখা খাতুন পাংশা থানায় মামলা করতে ব্যর্থ হয়ে রাজবাড়ী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নালিশি দরখাস্ত দাখিল করেন। পরবর্তীতে আদালতের আদেশে পাংশা থানায় মামলাটি এজাহার হিসেবে গণ্য করা হয়।

মামলার তদন্তকালে মেডিকেল পরীক্ষায় রেখা খাতুনের গর্ভধারণ নিশ্চিত হওয়া যায় এবং পরবর্তীতে তিনি 'রাফিউল হোসেন' নামের এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। সিআইডি তদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার পর ফারুক হোসেনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অনাদায়ে আরও ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। জরিমানার ৫ লাখ টাকা আসামির বর্তমান বা ভবিষ্যতের যেকোনো সম্পত্তি থেকে আদায় করে ভুক্তভোগী নারীকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রায়ে আদালত সদ্যোজাত শিশু রাফিউল হোসেনকে আসামি ফারুকের জৈবিক সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে বাবার সকল আইনি ও উত্তরাধিকার অধিকার নিশ্চিত করার আদেশ দেন। সন্তানের ২১ বছর বয়স পর্যন্ত ভরণপোষণের পুরো খরচ রাষ্ট্র বহন করবে, যা পরবর্তীতে দণ্ডপ্রাপ্ত ফারুকের থেকে আদায় করা হবে। বিষয়টি বাস্তবায়নে রাজবাড়ীর জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী জাহিদ উদ্দিন মোল্লা আদালতের এই যুগান্তকারী রায়ে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

ডিআর