Image description

পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব গিয়ে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতি বিদ্রোহীদের বর্বরোচিত হামলায় কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের এক শিক্ষক নিহত হয়েছেন। বিমানবন্দর ইমিগ্রেশনের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত মুফতি মো. নাসরুল্লাহ বদর (৩৭) উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের হাফেজ মোহাম্মদ উল্লাহর তৃতীয় ছেলে।

রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে রিয়াদ থেকে নাসরুল্লাহর মৃত্যুর সংবাদ তাঁর নিজ বাড়িতে পৌঁছালে পরিবার ও এলাকায় শোকের মাতম শুরু হয়।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার ভোরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪৫ জনের একটি কাফেলা নিয়ে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে রওনা দেন মুফতি মো. নাসরুল্লাহ। বাংলাদেশ সময় শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তাঁদের বহনকারী বিমানটি রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এরপর বিমানবন্দর টার্মিনালে বন্ডিং পাস ও ইমিগ্রেশনের লাইনে দাঁড়ানোর সময় হঠাৎ ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এই আকস্মিক হামলায় গুরুতর আহত হন মুফতি নাসরুল্লাহসহ বেশ কয়েকজন। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহত নাসরুল্লাহ দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ঢাকার কামরাঙ্গীরচর জামিয়া আরাবিয়া রবিউল উলূম মাদ্রাসার শিক্ষক ও পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। কর্মজীবী হিসেবে তিনি সপরিবারে কামরাঙ্গীরচর মাদ্রাসার পাশেই বসবাস করতেন। তাঁর ৮ ও ৪ বছর বয়সি দুটি ছেলে এবং ৬ বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। ছুটি পেলেই তিনি গ্রামের বাড়ি নাঙ্গলকোটের বদরপুরে এসে পিতা-মাতাকে দেখে যেতেন। আকস্মিক এই মৃত্যুতে তাঁর বৃদ্ধ পিতা-মাতা, স্ত্রী ও অবুঝ সন্তানরা এখন শোকে পাথর হয়ে পড়েছেন।

নিহতের ভাই আহসান বদর কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ভাই তাদের মাদ্রাসার শিক্ষক, কর্মচারী, বাবুর্চি ও দারোয়ানসহ ৪৫ জনের কাফেলা নিয়ে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্য রওনা করে। পরে বোডিংপাস করতে সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় আমার ভাইসহ অনেকে মারা গেছে। আমার ভাইয়ের মরদেহ দ্রুত বাংলাদেশে আনার দাবী জানাচ্ছি। পাশাপাশি সরকারকে তার মাছুম ছেলে-মেয়েদের পাশে দাঁড়ানোর আহব্বান জানাচ্ছি।”

ডিআর