Image description

শারদীয় দুর্গাপূজার মহোৎসবের আমেজের মধ্যেই গাইবান্ধায় সাধারণ মানুষ ও পূজা আয়োজকদের জন্য বাড়তির দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে নারিকেলের আকাশচুম্বী দাম। দুর্গাপূজার প্রধান অনুষঙ্গ সুস্বাদু নাড়ু তৈরি ও নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে নারিকেলের ব্যবহার অপরিহার্য। উৎসব ঘিরে চাহিদা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার সুযোগে স্থানীয় বাজারে দফায় দফায় বেড়েছে নারিকেলের দাম, যা এখন সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে।

সেপ্টেম্বরের শুরুতেও বাজারে যে নারিকেলের জোড়া বিক্রি হতো ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায়, বর্তমানে তা ঠেকেছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়। অথচ গত বছর একই সময়ে প্রতি জোড়া নারিকেল বিকিয়েছিল ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল থেকে গাইবান্ধা জেলা শহর ও উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অগ্নিমূল্যের চাপে অনেকে প্রয়োজন সত্ত্বেও কাটছাঁট করে কম পরিমাণে নারিকেল কিনছেন। আর ধর্মীয় নিয়ম রক্ষা করতে গিয়ে মন্দির ও মণ্ডপ পরিচালনা কমিটিগুলোকে বাজেট সামলাতে চরম হিমশিম খেতে হচ্ছে।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর গাইবান্ধার সাতটি উপজেলায় মোট ৬২৪টি মণ্ডপে উদযাপিত হতে যাচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজা। আগামী ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এই উৎসব। আয়োজকরা জানান, প্রতিটি মন্দিরের আনুষ্ঠানিকতায় গড়ে ৮০ থেকে ১০০টি বা তার চেয়েও বেশি নারিকেলের প্রয়োজন হয়। পাশাপাশি প্রতিটি সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারেও নাড়ু ও প্রসাদ তৈরিতে ১০ থেকে ৫০টি পর্যন্ত নারিকেলের চাহিদা থাকে।

সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গা এলাকার ক্রেতা বুদা মহন্ত আক্ষেপ করে বলেন, "দুই সপ্তাহ আগেও নারিকেলের দাম স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু পূজা আসার সঙ্গে সঙ্গেই দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। পরিবারের জন্য ২০টি দরকার হলেও বাধ্য হয়ে ১৫টি কিনেছি।"

অন্যদিকে, সাঘাটার ভরতখালী এলাকার কৃষক মৃধা মোহন্ত জানান, বাজারে নারিকেলের পর্যপ্ত সরবরাহ থাকলেও ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত দাম হাঁকাচ্ছেন, ফলে পূজার সামগ্রিক খরচ আকাশ ছোঁয়া হয়ে গেছে।

নারিকেলের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে গাইবান্ধা পৌর বাজারের ব্যবসায়ী মোস্তাক আলী ও রঞ্জু মিয়া জানান, উত্তরাঞ্চলে নারিকেলের উৎপাদন একেবারেই কম। বরিশাল ও দক্ষিণাঞ্চল থেকে ট্রাকযোগে নারিকেল আনতে হয়। এবার পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়া এবং পাইকারি মোকামে বেশি দামে কিনতে হওয়ায় খুচরা বাজারেও দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা।

গাইবান্ধা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতা শ্রী দিলীপ চন্দ্র জানান, দুর্গাপূজায় নিমন্ত্রিত অতিথিদের আপ্যায়নে নারিকেলের নাড়ুর বিশেষ কদর রয়েছে। কিন্তু নারিকেলসহ পূজার অন্যান্য আনুষঙ্গিক সরঞ্জামের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় মণ্ডপ কমিটি ও সাধারণ মানুষের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।

অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো এবং ধর্মীয় উৎসবের সময়ে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নারিকেলের বাজারে কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি ও তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন জেলার ক্রেতা ও পূজাসংশ্লিষ্টরা।

ডিআর