নোটিশ-জরিমানার পরও বহাল
কক্সবাজারে অনুমোদনহীন আড়াই শতাধিক পর্যটন প্রতিষ্ঠান
কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভসহ বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই চলছে আড়াই শতাধিক হোটেল, রিসোর্ট ও পর্যটনকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোরই নেই পরিবেশগত ছাড়পত্র, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) অনুমোদিত নকশা কিংবা ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স। নোটিশ ও জরিমানার পরও প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সম্প্রতি উখিয়ার পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যু ও ছয়জন আহত হওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পরিবেশগত ছাড়পত্র না থাকায় রিসোর্টটিকে কার্যক্রম বন্ধের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। পরে নোটিশ অমান্য করায় প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। রিসোর্টটির কউকের অনুমোদনও ছিল না।
কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা জানান, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে মেরিন ড্রাইভ এলাকার ২৬টি রিসোর্ট ও ১০টি রেস্তোরাঁকে পরিবেশগত ছাড়পত্র না থাকায় নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি রিসোর্টকে জরিমানা করা হয়েছে এবং দুটি রিসোর্টের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
কউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, মেরিন ড্রাইভ এলাকায় এক হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যাচাই-বাছাই করে আড়াই শতাধিক প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় বৈধতা নিশ্চিত করার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনুমোদন নিশ্চিত না করলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।
এদিকে কক্সবাজার শহর, রামুর পেঁচারদ্বীপ ও উখিয়ার ইনানীসহ বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় প্রায় সাড়ে পাঁচশ হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের কক্সবাজার ইনস্পেক্টর শফিকুল ইসলাম জানান, চলতি বছরে হোটেলের লাইসেন্সের জন্য প্রায় ১০০টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৫০টি হোটেলের লাইসেন্স নবায়ন করা হয়েছে। এর আগে প্রায় ২০০টি হোটেলের লাইসেন্স ছিল।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনিম জাহান বলেন, জনবলসংকটের কারণে সব ক্ষেত্রে যথাসময়ে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না। তবে জেলা প্রশাসন ও কউকের সমন্বয়ে রিসোর্টগুলো যাচাই করা হবে। অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির পর পর্যটনকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত না করে কীভাবে এসব প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নোটিশ ও জরিমানার মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপের বাইরে গিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
এসএ




Comments