চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে মহাসড়কে বিকল হয়ে পড়া যাত্রীবাহী বাসের যাত্রীদের চাপা দিয়েছে একটি লরি। এতে শিশুসহ পাঁচজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের রয়েল গেটসংলগ্ন মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে ছয় বছর বয়সী শিশু রাকিবের পরিচয় পাওয়া গেছে। সে নেত্রকোনা জেলার মদন থানার আজাহারুলের ছেলে। আহত ও নিহত ব্যক্তিদের সবার বাড়ি নেত্রকোনা জেলায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে নেত্রকোনাগামী শাপলা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস রাত পৌনে ১টার দিকে কুমিরা এলাকায় ঢাকামুখী মহাসড়কে বিকল হয়ে পড়ে। এ সময় বাসের যাত্রীরা একই মালিকানাধীন অন্য একটি বাসের জন্য সড়কের পাশে অপেক্ষা করছিলেন। তখন একই দিক থেকে আসা বিএসআরএমের একটি লরি দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন।
খবর পেয়ে কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক শিশুসহ আরও দুজনের মৃত্যু হয়।
নিহত শিশু রাকিবের মামা ও ওই বাসের যাত্রী সোহেল বলেন, “নগরের খেজুরতলা থেকে ৩০ জন যাত্রী নিয়ে শাপলা পরিবহনের একটি বাস নেত্রকোনার উদ্দেশে যাচ্ছিল। কুমিরা এলাকায় বাসটি বিকল হয়ে গেলে যাত্রীরা অন্য একটি বাসের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। এ সময় একটি লম্বা লরি এসে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের ধাক্কা দেয়। এতে তিনজন মারা যান।”
বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট মো. শামীম বলেন, রাত ১টার দিকে একটি বাস বিকল হয়ে পড়লে যাত্রীরা অন্য একটি বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় একটি লরি তাঁদের চাপা দেয়। তিনজনকে উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। অন্য আহতদের কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দুর্ঘটনাকবলিত লরি ও বাস আটক করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এসএ




Comments