Image description

গাজীপুরের কালীগঞ্জে ইলেকট্রিক্যাল সামগ্রীর দোকানে দুর্ধর্ষ ডাকাতি ও বিপুল পরিমাণ বৈদ্যুতিক মালামাল লুটের ঘটনায় মামলার ১৪ দিন পর দুই ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। এ সময় ডাকাতিতে ব্যবহৃত ও লুটের মালামাল পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি ট্রাকসহ আংশিক মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে কালীগঞ্জ থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কালীগঞ্জ-কাপাসিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুক্তাজুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১৪ অক্টোবর রাতে কালীগঞ্জ পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের তুমলিয়া বোয়ালী মোড়ে অবস্থিত ‘সুবাহান এন্টারপ্রাইজ’ নামক দোকানে এই দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। রাত আনুমানিক তিনটায় সংঘবদ্ধ ডাকাতদল দোকানের সাটারের তালা কেটে ভেতরে ঢোকে। তারা বিভিন্ন ধরনের বৈদ্যুতিক তার, ক্যাবল, ফ্যান ও সরঞ্জামসহ প্রায় ৪০ লাখ টাকার মালামাল দুটি ট্রাকে লোড করে নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় দোকানের মালিক সালাউদ্দিন আকন্দ বাদী হয়ে প্রথমে কালীগঞ্জ থানায় একটি চুরির মামলা দায়ের করেন। তবে পরবর্তীতে গভীর তদন্তে এটি একটি পরিকল্পিত ও দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা বলে উঠে আসে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন উপপরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল হাসান।

লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধার ও অজ্ঞাতনামা ডাকাতদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে মঙ্গলবার রাতে কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম অভিযান পরিচালনা করে। ডিএমপির বাড্ডা থানাধীন বড় বেড়াইদ এলাকা থেকে দুই ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— ঝালকাঠি জেলার রামচন্দ্রপুর এলাকার মৃত মুনসুর আলীর ছেলে মো. মিলন মিয়া (৪৫) এবং বাড্ডা এলাকার মো. রমজান (৪০)।

পরবর্তীতে তাদের দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি জ্যাক পিকআপ ট্রাক এবং চোরাই মালামাল স্থানান্তরের কাজে ব্যবহৃত অপর একটি ছোট পিকআপ জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে আসামিদের বসতবাড়ি ও ভাড়াকৃত দোকান থেকে লুটের কিছু বৈদ্যুতিক মালামাল উদ্ধার করা হয়।

বিকেলে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আদালতের মাধ্যমে গাজীপুর জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

ডিআর