গাজীপুরে ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব নেতাকর্মীরা
কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক তৎপরতা ঘিরে গাজীপুর মহানগরীর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ডিসেম্বরকে সামনে রেখে মহানগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সরব হয়ে উঠেছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন—এমন প্রত্যাশাকে সামনে রেখে নেতাকর্মীদের সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় রাখতেই এসব কমিটি গঠন করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্টে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সংগঠনটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও মহানগরীর বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডে কমিটি ঘোষণার মাধ্যমে সাংগঠনিক তৎপরতা চালানোর বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল থানা ছাত্রলীগের উদ্যোগে ৪০, ৪১ ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে ‘পূবাইল থানা আওয়ামী লীগ, গাজীপুর মহানগর’ নামের একটি ফেসবুক পেজে এসব কমিটি প্রকাশ করা হয়। পূবাইল থানা ছাত্রলীগের সভাপতি আরাফাত রহমান মোল্লা মিরাজ ও সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার অপুর স্বাক্ষরিত কমিটিগুলো আওয়ামী লীগের প্যাডে প্রকাশ করা হয়েছে।
নতুন কমিটি ঘোষণার পর নেতাকর্মীদের অভিনন্দন জানিয়ে পূবাইল থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার অপু তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘পূবাইল থানা ছাত্রলীগের নবগঠিত ৩টি ৪০, ৪১, ৪২ ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দদের। আপনাদের সংগ্রামী নেতৃত্বে প্রিয় মাতৃভূমি জঙ্গিমুক্ত, রাজাকারমুক্ত হবে আশা রাখি।’
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাত্রলীগের এমন তৎপরতা ও কমিটি ঘোষণার বিষয়ে জানতে চাইলে পূবাইল থানা বিএনপির সভাপতি মনির হোসেন বকুল মানবকণ্ঠকে বলেন, ‘এটি একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন। তারা যে চিন্তাভাবনা করে এসব কমিটি তৈরি করছে, এগুলো সব ভাগাভাগির বিষয়। এ ধরনের পরিবেশ শুধু পূবাইল নয়, সারাদেশের কোথাও নেই। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে জানান দিতে চায়, তারা মাঠে আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গসংগঠন এ বিষয়ে অনেক সোচ্চার রয়েছে। তারা কোনো ধরনের বহিঃপ্রকাশ বা আত্মপ্রকাশ করতে পারবে না।’
কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পূবাইলের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতাকর্মীদের পোস্ট, অভিনন্দন বার্তা ও সাংগঠনিক তৎপরতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।
এসএ




Comments