ডেপুটি স্পিকারের উদ্যোগে এগোচ্ছে জারিয়া-দুর্গাপুর রেললাইন প্রকল্প
দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নেত্রকোনার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা উপজেলায় রেল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ অগ্রগতি হয়েছে। জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালের উদ্যোগে জারিয়া-ঝাঞ্জাইল থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে।
গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রেলপথ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত প্রকল্প যাচাই কমিটির (পিইসি) সভায় জারিয়া-ঝাঞ্জাইল থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিশদ নকশা প্রণয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। এ অগ্রগতিতে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত রেল যোগাযোগ নিয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা উপজেলার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে জারিয়া-ঝাঞ্জাইল থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার রেললাইন সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ দাবি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ মে ২০২৬ তারিখে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের উদ্যোগে দুর্গাপুর সফর করেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, এমপি এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম। এ সময় বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সফরকালে তাঁরা জারিয়া-ঝাঞ্জাইল রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করেন এবং সেখান থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার রেললাইন সম্প্রসারণের সম্ভাবনা ও প্রয়োজনীয়তা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। পরে দুর্গাপুর জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে স্থানীয় সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সভায় স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি, যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং রেললাইন সম্প্রসারণের সম্ভাব্য সুফল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এ সময় রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাইসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালও দুর্গাপুর ও কলমাকান্দার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে রেল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলামের সভাপতিত্বে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রেল অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে প্রকল্প যাচাই কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জারিয়া-ঝাঞ্জাইল থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিশদ নকশা প্রণয়ন প্রকল্পটি আলোচনায় আসে। এতে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনসহ মন্ত্রণালয় ও রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আলোচিত অন্য দুটি প্রকল্প হলো সিলেট থেকে জাফলং পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং ফৌজদারহাট থেকে চট্টগ্রাম গুডস পোর্ট ইয়ার্ড (সিজিপিওয়াই) সেকশনে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণ ও সিজিপিওয়াই থেকে বে-টার্মিনাল পর্যন্ত নতুন রেল লিংক স্থাপনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ।
জারিয়া-ঝাঞ্জাইল থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুধু যাতায়াতের নতুন পথই তৈরি হবে না, বরং এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়নেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে দুর্গাপুর ও কলমাকান্দার মানুষের যোগাযোগ আরও সহজ হবে। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষকসহ সাধারণ মানুষ কম সময়ে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা দুর্গাপুরের সাদামাটির পাহাড়, সোমেশ্বরী নদী ও বিজয়পুরসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটকদের আকর্ষণ করে। রেল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হলে এসব পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের যাতায়াত আরও সহজ হবে। এতে পর্যটনশিল্পের বিকাশ, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
একই সঙ্গে কৃষিপণ্য ও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য পরিবহনে রেল যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে দুর্গাপুর ও কলমাকান্দার কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
দুর্গাপুর ও কলমাকান্দার মানুষের কাছে রেল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা শুধু একটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন। বছরের পর বছর ধরে এ অঞ্চলের মানুষ রেললাইন সম্প্রসারণের দাবি জানিয়ে আসছেন। পাহাড়ি জনপদ ও সীমান্তবর্তী এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে এ প্রকল্পকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন স্থানীয়রা।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের উদ্যোগে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, যাচাই-বাছাই ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের প্রত্যাশা আরও বেড়েছে। তবে প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন, অর্থায়ন ও বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপ সম্পন্ন হওয়া এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে জারিয়া-ঝাঞ্জাইল থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ প্রকল্প একদিন বাস্তব রূপ পাবে—এমন প্রত্যাশা দুর্গাপুর ও কলমাকান্দার সর্বস্তরের মানুষের।
এসএ




Comments