রাতের আঁধারে পুড়ল জীবিকার শেষ সম্বল
নিঃস্ব জাফরের পরিবার
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে গভীর রাতে দোকানঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আপন ভাইসহ তিনজনের বিরুদ্ধে। বুধবার (৪ নভেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার রণগোপালদী ইউনিয়নের গুলি আউলিয়াপুর গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে ভুক্তভোগী মো. জাফর চৌকিদারের দোকানঘরসহ ভেতরে থাকা সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে পরিবারের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি।
ভুক্তভোগী জাফর চৌকিদারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাঁর আপন ভাই জহির চৌকিদারের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জেরে তাঁকে বিভিন্ন সময় হুমকিও দেওয়া হয়েছে। পূর্বশত্রুতার জেরে জহির চৌকিদার, সোহাগ হাওলাদার ও মিলন মৃধা এ অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন বলে দাবি তাঁর। আগুনে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
দোকানটি পুড়ে যাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে জাফরের পরিবার। তাঁর স্ত্রী ফরিদা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘এই দোকানটি দিয়েই ছেলেমেয়ে নিয়ে আমাদের সংসার চলত। দোকানের আয় থেকেই কিস্তি ও দেনা-পাওনা পরিশোধ করতাম। আজ আগুনে আমাদের সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। আমরা এখন কীভাবে সংসার চালাব? কীভাবে দেনা পরিশোধ করব? আমাদের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
প্রত্যক্ষদর্শী শাহাবুদ্দিন চৌকিদার বলেন, ‘জাফর চৌকিদারকে দীর্ঘদিন ধরে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। পূর্বের বিরোধের কারণে এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে আমার ধারণা।’
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী ইলিয়াস সরদার বলেন, ‘সকালে ফজরের নামাজ পড়ে এসে দেখি, দোকানটি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। দোকানের কোনো মালামাল অবশিষ্ট নেই। যদি কেউ শত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকে, তাহলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে দোষীদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা হোক।’
ঘটনার রাতের বর্ণনা দিয়ে প্রতিবেশী হাসিনা আক্তার নিশিতা বলেন, ‘আমি বাসায় একা ঘুমিয়ে ছিলাম। রাত আনুমানিক ১টার দিকে বিকট শব্দে আমার ঘুম ভেঙে যায়। পরে লাইট জ্বালিয়ে ঘরের ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে দেখি, জাফর চৌকিদারের দোকানের ভেতরে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। বাসায় একা থাকায় প্রথমে ভয় পেয়ে যাই। পরে লাইট নিয়ে বাইরে এসে আগুন জ্বলতে দেখি।’
অন্যদিকে, অভিযুক্ত জহির চৌকিদারের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর স্ত্রী নুরুন্নাহার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার স্বামীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি এক সপ্তাহ আগে মাছ ধরার জন্য সাগরে গেছেন। তাঁদের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিন ধরে জমিসংক্রান্ত বিরোধ চলছে। এ বিরোধের জেরে তাঁরা আমাদের একাধিকবার মারধর করেছেন। বছরে প্রায় দুইবার আমাদের ওপর হামলা করা হয়।’
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রাতের আঁধারে একটি পরিবারের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন পুড়ে যাওয়ায় পরিবারটি চরম সংকটে পড়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হোক এবং তাঁরা যেন ন্যায়বিচার পান।
এ বিষয়ে দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার বিষয়টি আমি অবগত। সকালে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এসএ




Comments