চাঁদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানা ইঙ্গিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি পোস্ট বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ আইন অনুযায়ী কোনো দেশই চাঁদের ওপর সার্বভৌমত্ব বা মালিকানা দাবি করতে পারে না।
গত ৬ সেপ্টেম্বর ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ মার্কিন পতাকার পাশে ‘দ্য মুন ইজ আওয়ার্স’ (চাঁদ আমাদের) লেখা একটি ছবি পোস্ট করেন। পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে—যুক্তরাষ্ট্র কি সত্যিই চাঁদকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করেছে?
ফ্যাক্টচেক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ট্রাম্পের পোস্টটি আসল হলেও এর পেছনে কোনো দাপ্তরিক আইনি ভিত্তি বা নির্বাহী আদেশ নেই।
জাতিসংঘের আউটার স্পেস ট্রিটি বা বহিঃমহাকাশ চুক্তির ২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, চাঁদ বা অন্য কোনো মহাজাগতিক বস্তু সার্বভৌমত্ব দাবি, ব্যবহার, দখল বা অন্য কোনো উপায়ে কোনো রাষ্ট্র নিজের অধিকারভুক্ত করতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্র নিজেই এই চুক্তির অন্যতম স্বাক্ষরকারী দেশ।
জাতিসংঘের মহাকাশবিষয়ক দপ্তরের (ইউএনওওএসএ) এক মুখপাত্র জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া কোনো বক্তব্য আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় চাঁদের আইনি অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও চাঁদে মহাকাশযান পাঠানো চীন, রাশিয়া, ভারত ও জাপান এই আউটার স্পেস ট্রিটির সঙ্গে যুক্ত। ফলে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের কোনো আন্তর্জাতিক আইনি স্বীকৃতি পাওয়ার সুযোগ নেই।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পোস্টটি ট্রাম্প প্রশাসনের মহাকাশ নীতির একটি রাজনৈতিক বার্তা মাত্র। ট্রাম্প ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে স্থায়ী মার্কিন ঘাঁটি ও পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন। তবে সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করা এবং আন্তর্জাতিক আইনে চাঁদের মালিকানা দাবি করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। বর্তমান আন্তর্জাতিক মহাকাশ আইন অনুযায়ী চাঁদ কোনো একক রাষ্ট্রের ভূখণ্ড হতে পারে না।
ডিআর




Comments