Image description

যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশের ওপর শুল্ক আরোপ বাড়িয়েছে। এক্ষেত্রে প্রতিযোগিদের তুলনায় সুবিধাজন অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে রাপ্তানিতে দ্বিতীয় শীর্ষ স্থানে অবস্থানকারি বাংলাদেশ। তবে রয়েছে কিছু নতুন চ্যালেঞ্জ।  চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে আছে— যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিতে ১০ শতাংশ শুল্ক, বাংলাদেশের বিদ্যুত্ ও জ্বালানি সংকটে তৈরি পোশাক উত্পাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ক্রেতারা পণ্যের দাম বাড়ায়নি। তবে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারলেই ভালো একটি শক্তির ভিত্তি তৈরি করতে পারবে দেশের ৪০ লাখ লোকের কর্মসংস্থানকারি তৈরি পোশাকখাত— এমনটিই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

যুক্তরাষ্ট্রে রাপ্তানিতে শুল্ক বাড়লেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো পরিবর্তনের সংবাদ দিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িদের। তারা মনে করছেন সাময়িক শুল্ক স্থায়ী রূপ পাওয়ায় এটিকে চ্যালেঞ্জ করা আরও কঠিন হবে।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, আমাদের বাজার সম্প্রসারণে মনোযোগ দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ শুধু আমাদের ওপরেই করেনি— অন্যান্য প্রতিযোগী দেশগুলোর ওপরও একই নীতি কার্যকর হওয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান ধরে রাখা সম্ভব। তবে, তৈরি পোশাক খাতে সাময়িক চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। দেশের শ্রমবাজারে কমপ্লায়েন্স জোরদার করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সংলাপ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন বাজার খুঁজতে হবে। আমরা বহুদিন থেকে একমুখী বাজারে অবস্থান করছি। এটা ভবিষতের জন্য ভালো খবর নয়।

গত ২৩ জুলাইন জোরপূর্বক শ্রমে উত্পাদিত পণ্য আমদানি রোধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে ৮৬টি দেশের পণ্যে ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের ওপর আরোপিত এ শুল্ক ১০ শতাংশ। এক্ষেত্রে অন্যান্য প্রতিযোগী দেশের তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। নতুন মার্কিন পদক্ষেপে সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ শুল্কের তালিকায় বাংলাদেশ। আছে তিন বছর মেয়াদী টিআরকিউ তালিকাভুক্তির সম্ভাবনাও। এতে তৈরি পোশাক রপ্তানি খাতে বিশ্ববাজারে প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় খানিকটা বাড়তি সুবিধা পাবে ঢাকা। তবে শর্ত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কাঁচামাল আমদানিতে গুণতে হতে পারে বাড়তি খরচও। যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রাপ্তানিতে বাংলাদেশে প্রধান প্রতিযোগী দেশে চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের তুলনায় এগিয়ে যাওয়ারও সুযোগ পেলো বাংলাদেশ।

তবে, বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার জন্য একটি তিন বছর মেয়াদী ট্যারিফ-রেট কোটা বা টিআরকিউ প্রতিষ্ঠার বিষয় বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন। এর আওতায় তৈরি পোশাক প্রস্তুতে উপকরণ হিসেবে আমদানিকৃত মার্কিন তুলা ও বস্ত্র ব্যবহার করলে, উত্পাদিত পণ্যের ওপর শুল্ক মওকুফের সুবিধা পাবে উত্পাদনকারী দেশগুলো। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়বে বলে আশ্বস্ত করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই শুল্কে বাংলাদেশের পণ্য বাণিজ্যে কী প্রভাব পড়বে, সে বিষয়ে একাধিক রপ্তানিকারক বলেছেন, গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন আদালতে পাল্টা শুল্ক স্থগিত হওয়ার পর ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইন প্রয়োগের মাধ্যমে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন। সেটি মেয়াদ শেষ হতেই সমপরিমাণ নতুন শুল্ক বসছে। ফলে শুল্কহারে কোনো পরিবর্তন হয়নি। তবে নতুন দুশ্চিন্তা হচ্ছে, উত্পাদন খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা ও অতিরিক্ত উত্পাদন বিষয়ে আরেকটি তদন্ত করছে দেশটি। তাতে আবার শুল্ক আরোপ হলে নতুন সংকটের কারণ হতে পারে। 

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ) বলেন, নতুন ঘোষণায় বাংলাদেশের শুল্ক হার ১০ শতাংশ হলেও প্রধান প্রতিযোগী চীন ও ভিয়েতনামের পণ্যে শুল্কহার বাড়িয়ে ১২.৫ শতাংশ করা হয়েছে। এতে আমরা প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের তুলনায় ভালো থাকব। তবে সামগ্রিকভাবে শুল্ক বাড়লে বিক্রি কমবে, যার কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব রপ্তানির ওপর পড়বে।

অটেক্সার তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বছর শুরুর দিকে তৈরি পোশাকের চাহিদা কম থাকলেও মে মাসে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক আমদানি ২ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৬ শতাংশের মতো। যদিও মাসটিতে চীনের ১৮ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার ২৩ শতাংশ এবং কম্বোডিয়ার তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৮ শতাংশ।