Image description

ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামগামী আন্তঃনগর ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ ট্রেনে এক নারী যাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলা ও সম্পৃক্ততার অভিযোগে চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাদের প্রত্যাহার করে পাকশী রেলওয়ে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

প্রত্যাহার হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন—এটিএসআই খোকন ইসলাম (৩৫), কনস্টেবল ফজলে রাব্বি (৩৪), গোলাম মোস্তফা (৩৬) ও আশিকুল রহমান (৩০)। বর্তমানে এ ঘটনার নেপথ্য কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করছে রেলওয়ে পুলিশ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ আগস্ট রাতে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনটি চলন্ত অবস্থায় ওই নারীকে তল্লাশির কথা বলে খাবারের বগিতে (ডাইনিং কার) নিয়ে যান নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই পুলিশ সদস্য। সেখানে তার সঙ্গে অসদাচরণ করা হয় এবং তার কাছ থেকে অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। পরবর্তীতে ওই বগিতেই ট্রেনের ক্যান্টিনবয় আবু বক্কর সিদ্দিক তাকে ধর্ষণ করেন।

ঘটনার শিকার ওই নারী ৯৯৯-এ ফোন করে সাহায্য চাইলে পুলিশ ট্রেনের অবস্থান শনাক্ত করে। ট্রেনটি সান্তাহার রেলওয়ে জংশন স্টেশনে পৌঁছালে রেলওয়ে পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত ক্যান্টিনবয়কে আটক করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী নিজেই বাদী হয়ে সান্তাহার রেলওয়ে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

সান্তাহার রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দুলাল উদ্দীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মামলায় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের সংশ্লিষ্টতা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। যেহেতু ঘটনার সময় ওই চার পুলিশ সদস্য ট্রেনের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন, তাই প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে তাদের পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডিআর