কলাপাড়ায় বাক প্রতিবন্ধী নারীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা, সংঘর্ষে আহত ১০
৩৫০টি দোকান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এক বাক প্রতিবন্ধী নারীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীদের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের বানাতী বাজারের প্রায় ৩৫০টি দোকান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে এবং এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে দুই দফায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে সাতজনকে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে বানাতী বাজারের রমনী (৪০) নামের এক ব্যক্তির সেলুনের সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন ওই বাক প্রতিবন্ধী নারী। অভিযোগ উঠেছে, এসময় রমনী ওই নারীর হাত ধরে টেনে সেলুনের ভেতর নিয়ে যান এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। বিষয়টি অন্য ব্যবসায়ীরা দেখে ফেললে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি শান্ত করতে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে স্থানীয়রা সালিশি বৈঠকে বসেন। বৈঠকে অভিযুক্ত রমনীকে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তাকে গ্রাম পুলিশের জিম্মায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে গ্রাম পুলিশ তাকে জিম্মায় নিতে রাজি না হওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ী জুয়েল তাকে নিজ জিম্মায় নিতে চান। এ নিয়ে বানাতী বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রুবেল হাওলাদারের সঙ্গে জুয়েলের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে সভাপতি রুবেল হাওলাদারসহ কয়েকজন আহত হন।
এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে শুক্রবার সকালে ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ রেখে বাজারে অবস্থান নিলে ফের দুই গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে জুয়েল, জুবায়ের, ইমরান, মনির ও কামালসহ অন্তত ৮ জন আহত হন।
বানাতী বাজার ব্যবসায়ী সমিতির উপদেষ্টা হেমায়েত উদ্দিন হিরন বলেন, "পুরো ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং দোষীদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত বাজারের সকল দোকানপাট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।"
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি সম্পর্কে পুলিশ অবগত রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডিআর




Comments