Image description

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় দীর্ঘদিনের অবহেলায় প্রায় ৭ কিলোমিটার সলঙ্গা-বনবাড়িয়া-নওলুয়াদিঘী-নুনিয়ারপাড়-তাড়াশ আঞ্চলিক সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে পিচ উঠে নিচের মাটি বের হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে ছোট ছোট জলাশয়ের মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়। বিকল্প সড়ক না থাকায় প্রতিদিন হাজারো মানুষ চরম ঝুঁকি নিয়ে এই ভাঙাচোরা সড়ক দিয়ে চলাচল করছেন।

সলঙ্গা থানার ঐতিহ্যবাহী সলঙ্গা-তাড়াশ আঞ্চলিক সড়কের প্রায় ৭ কিলোমিটারজুড়েই এখন দুর্ভোগের চিত্র। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কের বিভিন্ন অংশে তৈরি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় খানাখন্দ। কোথাও কোথাও গর্তের গভীরতা এক থেকে দুই ফুট ছাড়িয়ে গেছে। বৃষ্টির পানি জমে থাকায় এসব গর্তের গভীরতা বোঝার কোনো উপায় থাকে না। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

বিশেষ করে কুটিপাড়া, বনবাড়িয়া, চারাবটতলা, আমসাড়া ও রৌহদহ এলাকার হাজার হাজার মানুষ বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এই সড়ক ব্যবহার করছেন।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সলঙ্গা-তাড়াশ আঞ্চলিক সড়কের প্রায় ৭ কিলোমিটার অংশজুড়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। কোথাও কোথাও উঠে গেছে সড়কের পিচ। বৃষ্টির পানি জমে গর্তগুলো কাদায় পরিণত হয়েছে। গর্ত এড়িয়ে যানবাহন চলাচলের মতো পর্যাপ্ত জায়গাও নেই। এতে যানবাহন উল্টে যাওয়ার ঝুঁকির পাশাপাশি পথচারীদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা জানান, সলঙ্গা থানার এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দিয়ে শত শত গ্রামের মানুষ জেলা শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করেন। প্রতিদিন ধান, মাছসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য ও মালামাল নিয়ে এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে অসংখ্য যানবাহন। কিন্তু চারবটতলা ও বনবাড়িয়া এলাকার ভাঙা অংশে প্রায়ই অটোরিকশা, ধান ও মালামালবাহী যানবাহন উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে আহত হচ্ছেন যাত্রী ও চালকেরা।

ট্রাকচালক মিলন মিয়া বলেন, “বৃষ্টি হলে গর্তগুলো পানিতে ভরে যায়। তখন কোনটা গর্ত আর কোনটা রাস্তা, তা বোঝার কোনো উপায় থাকে না। প্রতিদিনই কয়েকটি গাড়ি গর্তে পড়ে উল্টে মানুষ আহত হচ্ছেন। রোগী নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে গেলে ঝাঁকুনিতে তাঁর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করা দরকার।”

মোটরসাইকেল চালক খবির উদ্দিন বলেন, “মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থাও নেই। অটোরিকশা বা অন্য কোনো গাড়ি নিয়ে গেলে বিপদ আরও বেশি। মানুষ কত কষ্ট করে চলাচল করছে। কর্তৃপক্ষের দ্রুত নজর দেওয়া দরকার।”

বনবাড়িয়া গ্রামের সেলিম ইলাহী বলেন, “সলঙ্গার এ অঞ্চলটি মূলত কৃষিপ্রধান। প্রতিদিন ধান-মাছসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে হাজারো মানুষ এই রাস্তা দিয়ে সলঙ্গা বাজারে যান। দীর্ঘদিন রাস্তাটি সংস্কার না করায় মানুষকে অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে। গর্ত ও উঁচু-নিচু জায়গায় গাড়ি উল্টে অনেক মানুষ আহত হয়েছেন। পুরো অংশজুড়ে কাদা। কোনো রোগীকে নিয়ে গেলে ঝাঁকুনিতে তাঁর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। দ্রুত রাস্তাটি মেরামত করা দরকার।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা অবস্থায় থাকলেও স্থায়ীভাবে সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে অসুস্থ রোগীদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার সময় দুর্ভোগ চরমে ওঠে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, আর কত দুর্ঘটনা ঘটলে এবং কত জীবন বিপন্ন হলে প্রশাসনের টনক নড়বে? শুধু মেয়াদি আশ্বাস নয়, সলঙ্গাবাসীর দাবি—বেহাল এই সড়কের দ্রুত ও স্থায়ী সংস্কার।

এ বিষয়ে জেলা প্রকৌশলী রেজাউর রহমান সড়কটির দুরবস্থার কথা স্বীকার করে দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি মানবকণ্ঠের প্রতিবেদককে বলেন, “রাস্তাটির টেন্ডার হয়ে লাইভে আছে। ১৫ দিনের মধ্যে ঠিকাদার পাওয়া যাবে। ঠিকাদার নির্বাচিত হলে কাজটি সুন্দরভাবে করা সম্ভব হবে।”

এসএ