Image description

কবিতা ও সাহিত্য একটি আলোকিত, মানবিক ও মননশীল সমাজ গঠনের অন্যতম শক্তি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদায়) জহির উদ্দিন স্বপন।

তিনি বলেন, “কবির কলম এবং সাহিত্যিকের চিন্তা সমাজকে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়। মানুষের মধ্যে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও দেশপ্রেম জাগিয়ে তুলতে সাহিত্যের ভূমিকা অপরিসীম। তাই সাহিত্যচর্চাকে শুধু ব্যক্তিগত সৃজনশীলতা হিসেবে দেখলে হবে না; এটি একটি আলোকিত ও মননশীল সমাজ বিনির্মাণের অন্যতম শক্তি।”

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশালের গৌরনদী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে চন্দ্রদ্বীপ সাহিত্য সমাজ ও বাংলা ভাষা-বাঙালি সংস্কৃতি সমাজের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত কবি-সাহিত্যিকদের মিলনমেলা ও সম্মাননা প্রদান-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বর্তমান প্রজন্ম প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। এ সময়ে বই পড়ার অভ্যাস ও সাহিত্যচর্চা আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। তরুণদের হাতে প্রযুক্তির পাশাপাশি বই তুলে দিতে হবে। জ্ঞান ও সৃজনশীলতার সমন্বয়েই আগামী দিনের মানবিক সমাজ গড়ে উঠবে।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ঐতিহ্য তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতীয় চেতনার বিকাশে কবি-সাহিত্যিকদের অবদান অনস্বীকার্য। তাঁদের লেখনী মানুষকে শেকড়ের সঙ্গে যুক্ত করে এবং ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে সহায়তা করে। দীর্ঘদিন ধরে সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে সমাজ ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখা ব্যক্তিদের সম্মানিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এ ধরনের স্বীকৃতি সৃষ্টিশীল মানুষকে অনুপ্রাণিত করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের লেখকদেরও উদ্বুদ্ধ করবে।

চন্দ্রদ্বীপ সাহিত্য সমাজের সভাপতি ও বাংলা ভাষা-বাঙালি সংস্কৃতি সমাজের উপদেষ্টা সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম জহিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইব্রাহিম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসান, গৌরনদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল, বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মিজানুর রহমান মুকুল, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব, সাবেক আহ্বায়ক আলহাজ মো. আবুল হোসেন মিয়া, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জহীর সাজ্জাত হান্নান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বদিউজ্জামান মিন্টু, গৌরনদী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন, সদস্য সচিব শরীফ সফিকুর রহমান স্বপন ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুজ্জামান খোকন।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গৌরনদী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি খোন্দকার মনিরুজ্জামান মনির, জামায়াতে ইসলামীর পৌর আমির মো. হাফিজুর রহমান, আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. শামীমুল হক এবং মহিলা দলের নেত্রী তাসলিমা পারভীনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত কবি-সাহিত্যিকদের সৃষ্টিকর্ম সংরক্ষণ, প্রকাশ এবং পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জোর তাগিদ দেন।

অনুষ্ঠান শেষে সাহিত্যচর্চা ও সংস্কৃতির বিকাশে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন এলাকার বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক ও লেখকদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধান অতিথি জহির উদ্দিন স্বপন। সম্মাননাপ্রাপ্ত লেখকেরা এই স্বীকৃতিকে ভবিষ্যতে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সমৃদ্ধিতে কাজ করার নতুন প্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেন।

ডিআর