ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় খাল খনন শেষে বেঁচে যাওয়া ৬৪ লাখ টাকা ফেরত দিলেন ইউএনও
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ তিনটি খালের পুনঃখনন কাজ শেষে বেঁচে যাওয়া ৬৪ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাফে মোহাম্মদ ছড়া।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) তিনি অব্যয়িত এই অর্থ সরকারি ট্রেজারিতে জমা দেন। সরকারি প্রকল্পের কাজ শেষে টাকা ফেরত দেওয়ার এই ব্যতিক্রমী ও সততার দৃষ্টান্তটি স্থানীয় জনপদ, জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আশুগঞ্জ উপজেলায় তিনটি খালের পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ সম্প্রতি শেষ হয়েছে। খননকৃত খালগুলো হলো— আশুগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কাটাকালি থেকে ভবানীপুর পর্যন্ত, আড়াইসিধা ইউনিয়নের ভবানীপুর থেকে দগড়িসার পর্যন্ত এবং দগড়িসার থেকে লাউয়সার পর্যন্ত। এই তিনটি খালের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তিনটি খাল পুনঃখননের জন্য সরকারিভাবে ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ কোটি ১ লাখ টাকা। কাজ শেষে উদ্বৃত্ত ৬৪ লাখ টাকা পকেটে না ভরে বা অপচয় না করে তা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেয় উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আলমাস উদ্দিন জানান, প্রকল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কাজটির নিয়মিত তদারকি করা হয়েছে। বিশেষ করে ইউএনও মহোদয় ব্যক্তিগতভাবে একাধিকবার প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন। কাজের গুণগত মান ও ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শ্রমিকদের মজুরি, যন্ত্রপাতির ব্যবহার এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় পরিশোধের পর এই বিশাল অংকের অর্থ সাশ্রয় হয়েছে।
আড়াইসিধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সায়েম মিঠু বলেন, "সরকারি প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর টাকা ফেরত যাওয়ার ঘটনা আমরা খুব একটা শুনি না। এটি একটি বিরল দৃষ্টান্ত। আমরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।"
উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামাল হোসেন বলেন, "সরকারি অর্থ জনগণের সম্পদ। এমন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অন্য উপজেলাগুলোর জন্যও অনুসরণীয় হওয়া উচিত।"
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাফে মোহাম্মদ ছড়া বলেন, "সরকারি অর্থ জনগণের আমানত। এই অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমরা প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে মান বজায় রেখে প্রয়োজনীয় ব্যয় করেছি। কাজ শেষে যে অর্থ অবশিষ্ট ছিল, সরকারি বিধি অনুযায়ী তা কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাই আমাদের অঙ্গীকার।"
প্রকল্পটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী মো. শাহজাহান সিরাজ, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমানসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments