Image description

একটু বৃষ্টি হলেই হাঁটুসমান পানি, আর সেই পানি নেমে গেলেই বেরিয়ে আসে মরণফাঁদ সদৃশ বড় বড় গর্ত। মাদারীপুর পৌর শহরের অধিকাংশ সড়কের এখন এমনই বেহাল দশা। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাব, অপরিকল্পিত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, যা জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহীদ বাচ্চু সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার অংশ এখন চলাচলের অনুপযোগী। পিচ-পাথর উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। বৃষ্টির সময় এসব গর্তে পানি জমে থাকায় যানবাহন চালকরা গর্তের গভীরতা বুঝতে পারেন না, ফলে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এছাড়া মন্টু ভূঁইয়া সড়ক, হামিদ আকন্দ সড়ক, ডাক্তার তোতা সড়ক, শহীদ হারুন সড়ক ও অখিল বন্ধু সড়কসহ অধিকাংশ সড়কের অবস্থাই নাজুক।

স্থানীয় অটোরিকশা চালক খোকন বলেন, “শহরের সড়কগুলোর যে অবস্থা, তাতে দুই-একদিন পরপরই গাড়ি মেরামত করতে হয়। ভাঙা রাস্তায় ঝাঁকুনির কারণে যাত্রীরাও বিরক্ত হন এবং গন্তব্যে পৌঁছাতে অনেক সময় নষ্ট হয়।”

শহীদ বাচ্চু সড়ক এলাকার ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটি পুরান বাজারে যাওয়ার প্রধান সড়ক। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। অথচ প্রায় দুই বছর ধরে সড়কটি খানাখন্দে ভরা। বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি নরকতুল্য হয়ে ওঠে।”

জলাবদ্ধতার বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মী জুয়েল শাহাদাত জানান, ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ি, লঞ্চঘাট ও সবুজবাগ এলাকার ড্রেনগুলো প্লাস্টিকের বোতল ও চিপসের প্যাকেটে ভরে থাকায় পানি নামতে পারছে না। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকাগুলো তলিয়ে যাচ্ছে।

মাদারীপুর পৌরসভার সচিব খন্দকার আবু আহমেদ ফিরোজ জানান, আরইউটিডিপি (RUTDP) প্রকল্পের আওতায় আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শহীদ বাচ্চু সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ তিনটি সড়কের টেন্ডার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শহর জুড়ে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নতির জন্যও কাজ চলছে।

পৌরসভার প্রশাসক জেসমিন আক্তার বলেন, “বর্ষায় নদীর পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় ড্রেনের পানি নামতে দেরি হয়। এছাড়া যত্রতত্র ময়লা ফেলায় ড্রেন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে জনগণের সচেতনতা জরুরি। আমরা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার ও জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছি।”

মানবকণ্ঠ/ডিআর