Image description

প্রশাসনে বড় ধরনের পদক্ষেপ হিসেবে একযোগে ৩২ জন যুগ্ম সচিবকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো এই কর্মকর্তারা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারা অনুযায়ী যাদের চাকরির বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে, তাদের জনস্বার্থে সরকারি চাকরি থেকে অবসর দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এই ৩২ কর্মকর্তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।

সরকারি চাকরি আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তার চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হলে সরকার কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই তাকে অবসরে পাঠাতে পারে। তবে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো এই কর্মকর্তারা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সব ধরনের অবসর-সুবিধা পাবেন।

অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের তালিকা:
বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা হলেন— মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী (পটুয়াখালী), মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক (ভোলা), এস এম অজিয়র রহমান (বরিশাল), ওয়াহেদুজ্জামান (ফেনী), মো. শহীদুল ইসলাম (খাগড়াছড়ি), সরোজ কুমার নাথ (ঝিনাইদহ), মো. জসিম উদ্দিন (পাবনা), মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ (সুনামগঞ্জ), মো. কামাল হোসেন (কক্সবাজার), এ কে এম মামুনুর রশিদ (রাঙামাটি), অঞ্জন চন্দ্র পাল (লক্ষ্মীপুর), মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন (চট্টগ্রাম), মো. মিজানুর রহমান (ময়মনসিংহ), এ জেড এম নুরুল হক, কাজী আবু তাহের (শরীয়তপুর), মো. শাহরিয়ার (নাটোর), মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম (বান্দরবান), মঈনউল ইসলাম (নেত্রকোনা), মো. আসলাম হোসেন (কুষ্টিয়া), আবুল ফজল মীর (কুমিল্লা), মো. মাজেদুর রহমান খান (চাঁদপুর), এস এম ফেরদৌস (মানিকগঞ্জ), গোপাল চন্দ্র দাশ (চুয়াডাঙ্গা), নাজিয়া শিরিন (নীলফামারী), মোছা. সুলতানা পারভীন (কুড়িগ্রাম), আনারকলি মাহবুব (শেরপুর), মো. হেলাল হোসেন (খুলনা), সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন (নরসিংদী), মো. সারওয়ার মোর্শেদ চৌধুরী (কিশোরগঞ্জ), মাহমুদুল কবির মুরাদ (হবিগঞ্জ), মো. আলী আকবর এবং এস এম আব্দুল কাদের (রাজশাহী)।

প্রশাসনের সংস্কার ও গতিশীলতা আনতেই সরকারের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর