Image description

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় ন্যায্যমূল্যে বিক্রির জন্য সরকারি বরাদ্দের আটা আত্মসাতের অভিযোগে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকসহ তিন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) খাদ্য অধিদপ্তর থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন—কালাই উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হুমায়ূন আহম্মেদ, উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক মো. মাহমুদুন্নবী সরকার এবং সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক আব্দুল মোমিন। বরখাস্তের পাশাপাশি তাদের কালাই উপজেলা থেকেও প্রত্যাহার করা হয়েছে।

সম্প্রতি উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা হুমায়ূন আহম্মেদের একটি গোপনে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তাকে অনিয়মের বিষয়ে বলতে শোনা যায়, “এত কথা বলা লাগবি ক্যা... সবাই মিলেমিশে খাই... ভাই-ব্রাদার মানুষ, সবাই মিলেমিশে খাওয়া হবে...”। এই ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে টনক নড়ে।

খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার আওতাধীন আক্কেলপুর, কালাই ও ক্ষেতলাল উপজেলায় বিশেষ ওএমএস কার্যক্রমের মাধ্যমে চাল ও আটা বিক্রি করা হচ্ছে। কালাই উপজেলায় প্রতিদিন দুই টন চাল ও দুই টন আটা বরাদ্দ রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী একজন সুবিধাভোগী ২৭০ টাকায় পাঁচ কেজি চাল ও পাঁচ কেজি আটা কিনতে পারেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন দুই টন আটার বিপরীতে বিক্রয়কেন্দ্রে ৪০ বস্তা আটা থাকার কথা থাকলেও সেখানে রাখা হতো মাত্র ২০ বস্তা। ফলে অনেক সাধারণ মানুষ চাল পেলেও আটা থেকে বঞ্চিত হতেন। বাকি ২০ বস্তা আটার কোনো সঠিক হিসাব দিতে পারেনি উপজেলা খাদ্য বিভাগ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বিক্রয়কেন্দ্রে অর্ধেক আটা রেখে বাকিটা গোপনে সরিয়ে ফেলা হতো।

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হুমায়ূন আহম্মেদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

জয়পুরহাট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাকিল আহমেদ জানান, প্রাথমিক তদন্তে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট তিন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত ও কালাই থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর