Image description

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলায় সরকারি নীতিমালা ও উচ্চ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে নদীতীর ঘেঁষে বালু উত্তোলন, সংরক্ষণ ও বেচাকেনার মহোৎসব চলছে। নদীতীর সংরক্ষণ কাজের নিরাপত্তা বিধান অমান্য করে একাধিক স্থানে বালু স্তূপ করে রাখায় একদিকে যেমন সরকারের কোটি কোটি টাকার প্রতিরক্ষা কাজ হুমকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে ব্যাহত হচ্ছে নদীতে স্বাভাবিক নতুন চর সৃষ্টি। এতে জনদুর্ভোগ বাড়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির মুখে পড়ছে কৃষি ও পরিবেশ।

কাজিপুর উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বাংলা ১৪৩৩ সনের বালুমহাল ইজারার আওতায় কাজিপুর মৌজার ১৯৪ দশমিক ১৭ একর জমির বালুমহাল প্রায় ১ কোটি ৭৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায় ইজারা নেয় ‘মেসার্স মিম কনস্ট্রাকশন’।

সরকারি বিধিমালা ও উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, নদীতীর সংরক্ষণ কাজ (বাঁধ) থেকে কমপক্ষে ৫০০ মিটার দূরে বালু সংরক্ষণ এবং ১ হাজার মিটার দূর থেকে বালু উত্তোলনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু সরেজমিনে স্থানীয়দের অভিযোগে জানা যায়, ইজারাদার পক্ষ এসব নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নদীতীর ঘেঁষেই অন্তত ৩৭টি স্থানে বালু মজুদ ও বেচাকেনা চালিয়ে যাচ্ছে। যত্রতত্র বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি পরিবর্তনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালি উত্তোলনের ফলে পলি জমার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে নতুন চর জাগার হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আবাদযোগ্য জমি বৃদ্ধির সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছে। এর ফলে স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে জনস্বাস্থ্য ও যাতায়াত ব্যবস্থাও সংকটে পড়েছে। প্রতিদিন শত শত ট্রাক ও ট্রলিতে বালু পরিবহনের সময় সড়কে ব্যাপক ধুলাবালি ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে পথচারী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। ধুলার কারণে সড়কে দৃশ্যমানতা কমে গিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি এলাকায় শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি ও অন্যান্য ধুলাবাহিত রোগের প্রকোপও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

এ বিষয়ে কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “বালু সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কয়েকটি স্থানে নিয়ম না মানার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেছি। এরপরও যদি তারা নিয়ম অমান্য করে বালু উত্তোলন ও সংরক্ষণ অব্যাহত রাখেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এলাকাবাসীর দাবি, শুধু সতর্কবার্তায় কাজ হচ্ছে না। নদীতীর সংরক্ষণ কাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ বালুর স্তূপ দ্রুত অপসারণসহ নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ না নিলে নদী ভাঙন পরিস্থিতির অবনতির পাশাপাশি জনজীবন আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর