সখীপুরে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোই দুই গ্রামের মানুষের ভরসা
একা একা শিশুদের স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগে
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার মরিচকুঁড়ি খালের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে বাঁশের তৈরি সরু একটি সাঁকো। খালটির দুই পাড়ে কাঁকড়াজান ও কালিয়া ইউনিয়ন। আর দুঃখজনক হলেও সত্য, দুই ইউনিয়নের যথাক্রমে মরিচকুঁড়ি ও বাসারচালা গ্রামের প্রায় হাজারো মানুষের পারাপারের একমাত্র মাধ্যম এই সাঁকো।
জানা যায়, মরিচকুঁড়ি থেকে বাসারচালার দূরত্ব খুব বেশি নয়। মাঝখানে রয়েছে মরিচকুঁড়ি জোড়া (ছোট খাল)। খালের ওপর নির্মিত নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়েই চলাচল করেন দুই গ্রামের শিশু-কিশোর, শিক্ষার্থী, কৃষক ও বয়োবৃদ্ধরা। এতে ঝুঁকি নিয়ে মানুষ চলাচল করতে পারলেও রোগী নিয়ে যাতায়াত কিংবা কোনো যানবাহন চলাচল অসম্ভব। এমনকি আবহাওয়া খারাপ থাকলে মানুষের চলাচলও কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে কৃষিনির্ভর দুটি গ্রামের ধানসহ বিভিন্ন সবজিপণ্য বাজারজাত করতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সাঁকো ব্যবহার করলে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে সময় লাগে মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট। কিন্তু বিকল্প হিসেবে মহানন্দপুর হয়ে ঘুরে যেতে অতিরিক্ত সময় লাগে প্রায় এক ঘণ্টা।
বাসারচালা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, গ্রামের শিক্ষার্থীরা বাইসাইকেল নিয়ে সাঁকো পার হতে গিয়ে বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়। অনেক সময় খালে পড়ে গিয়ে ভেজা বইপত্র নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়। এ ছাড়া রোগী ও বয়োবৃদ্ধ মানুষের পারাপার তো একেবারেই অসম্ভব।
সালমান হাবিব নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, বাধ্য হয়েই ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে হয়। একা একা শিশুদের স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগে। একটি সেতু নির্মাণ করা হলে দুই গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও ভোট শেষে সেই প্রতিশ্রুতির আর কোনো বাস্তবায়ন দেখা যায় না। বছরের পর বছর ধরে একই দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন দুই গ্রামের মানুষ। একটি সেতু নির্মাণ করা হলে দুই গ্রামের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে জানান তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সখীপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান মানবকণ্ঠ-কে বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় থাকা বাঁশের সাঁকোগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব সাঁকোর স্থানে স্থায়ী সেতু নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




Comments