নদীবন্দরে ‘রিজেক্টেড’ পাথর
চিলমারী নদীবন্দর প্রকল্পে নিম্নমানের পাথর ব্যবহারের অভিযোগ
৩৩৫ কোটি টাকার চিলমারী নদীবন্দর প্রকল্পে পাথর নিয়ে প্রশ্ন
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে নির্মাণাধীন নদীবন্দর প্রকল্পে নিম্নমানের ও রিজেক্টেড পাথর ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্প এলাকায় এসব পাথর পড়ে থাকায় তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার নদীবন্দর টার্মিনাল ভবন নির্মাণ ও নদীতীর সংরক্ষণকাজের এলাকায় বিপুল পরিমাণ পাথর স্তূপ করে রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব পাথরের কিছু অংশ ময়লা-আবর্জনাযুক্ত, মরা ও নিম্নমানের।
স্থানীয়দের দাবি, ৮ আগস্ট প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনের সময় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি নিম্নমানের পাথরের স্তূপ দেখতে পান। এ সময় জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্প পরিচালক উপস্থিত ছিলেন। পাথরের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলে প্রকল্প পরিচালক এগুলো রিজেক্টেড বলে জানান এবং সরিয়ে নেওয়ার কথা বলেন। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনিও প্রকল্প এলাকায় রাখা রিজেক্টেড পাথর সরিয়ে নেওয়ার কথা জানান।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্দেশ দেওয়ার কয়েক দিন পরও পাথরগুলো সরানো হয়নি। বরং এসব পাথর প্রকল্পের কাজে ব্যবহারের চেষ্টা করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। চিলমারী নদীবন্দর প্রকল্পটি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ—বিআইডব্লিউটিএ বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের আওতায় রমনা, জোড়গাছ, রাজিবপুর, রৌমারী ও নয়ারহাট এলাকায় নদীবন্দর অবকাঠামো নির্মাণের কথা রয়েছে। প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ছিল ২৩৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। পরবর্তীতে সংশোধিত প্রকল্পে ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। বর্তমান বাস্তবায়নকাল জুলাই ২০২১ থেকে ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত।
প্রকল্পটির কাজ নিয়ে এর আগেও ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪ সালে একটি সংবাদমাধ্যম এক প্রতিবেদনে প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি মাত্র ৮ শতাংশ বলে জানিয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দা মাজু ইব্রাহিম, রেজাউল করিম, সাজ্জাদ হোসেন, মাসুম ও সুজনসহ কয়েকজন অভিযোগ করেন, প্রকল্পের শুরু থেকেই বিভিন্ন কাজে অনিয়ম এবং ধীরগতির কারণে তারা উদ্বিগ্ন। প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নিয়েও তাদের মধ্যে সংশয় রয়েছে।
চিলমারী নদীবন্দরের দায়িত্বে থাকা পোর্ট অফিসার পুতুল চন্দ্র রায় বলেন, নির্মাণ প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য প্রকল্প পরিচালকের কাছে রয়েছে। এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি। চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, পাথরগুলো রিজেক্টেড। সেগুলো সরিয়ে ফেলতে হবে। বিষয়টি তিনি দেখছেন। চিলমারী নদীবন্দর নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদ মোল্লা বলেন, পাথরগুলো দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে এবং কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে না। এগুলো সরিয়ে নেওয়া হবে।
৮ আগস্ট ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাথর সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল- এমন দাবির বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়নি; সরিয়ে নেওয়া হবে।’ এদিকে প্রকল্পের কাজে নিম্নমানের পাথর ব্যবহারের অভিযোগের পাশাপাশি প্রকল্পের ধীরগতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে পাথরের মান প্রকৌশলগত পরীক্ষায় কী পাওয়া গেছে এবং এগুলো প্রকল্পের কোনো কাজে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কারিগরি প্রতিবেদন ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
এম আর এ




Comments