নীলফামারীতে সাপের কামড়ে ২ জনের মৃত্যু, প্রাণ ফিরে পাওয়ার আশায় ঝাড়ফুঁক
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে বিষধর সাপের কামড়ে এক যুবক ও এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত যুবক আবার জীবিত হবে—এমন অলৌকিক বিশ্বাসে তার মরদেহে ওঝা দিয়ে দীর্ঘক্ষণ ঝাড়ফুঁক করিয়েছেন স্বজনেরা।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর গফুর।
নিহতরা হলেন—উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের জুরাবান্ধা মালিপাড়া এলাকার বিপুল রায়ের ছেলে বিজয় রায় (২০) এবং বাহাগিলী ইউনিয়নের বৈধপাড়া গ্রামের আব্দুর রহিমের মেয়ে লুনা।
স্থানীয় ও স্বজন সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাতে বিজয় রায় স্থানীয় একটি মনসার গানের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। সেখানে দর্শকদের আনন্দ দিতে একটি বিষধর সাপ নিয়ে খেলা দেখাচ্ছিলেন তিনি। খেলা দেখানোর একপর্যায়ে সাপটি তার হাতে কামড় দেয়। বাড়িতে ফিরে ব্যথায় ছটফট করতে থাকলে স্বজনেরা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যু হয়।
তবে আজ শুক্রবার সকালে বিজয়ের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসার পর এক চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিবারের সদস্যদের বিশ্বাস, গ্রাম্য ওঝা দিয়ে ঝাড়ফুঁক করালে বিজয় আবার জীবিত হয়ে উঠবে। এই বিশ্বাস থেকে সকাল থেকে লাশের ওপর ওঝা ডেকে মন্ত্রপড়া ও ঝাড়ফুঁক চালানো হয়। দীর্ঘ সময় ঝাড়ফুঁক চললেও শেষ পর্যন্ত কোনো অলৌকিক কিছু ঘটেনি।
নিহত বিজয়ের বাবা বিপুল রায় আক্ষেপ করে বলেন, "ডাক্তাররা তো গতকালই তাকে মৃত ঘোষণা করেছিল। কিন্তু আজ মরদেহ বাড়িতে আনার পর আমাদের মনে হলো ঝাড়ফুঁক করলে হয়তো ছেলেটা ফিরে আসবে। সেই আশা থেকেই ওঝা ডেকেছিলাম।"
এদিকে, একই উপজেলায় সাপের কামড়ে লুনা নামে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে পরিবারের সবার সঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে সে ঘুমাতে যায়। মধ্যরাতে ঘুমের মধ্যে তার ডান হাতে একটি সাপ কামড় দিলে সে তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করে। স্বজনেরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর গফুর বলেন, "সাপের কামড়ে পৃথক দুটি মৃত্যুর খবর আমরা পেয়েছি। হাসপাতাল থেকে মৃত ঘোষণা করার পরও মরদেহ ঝাড়ফুঁক করার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।"
ডিআর




Comments