Image description

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে পৈত্রিক জমিতে আমন ধানের চারা রোপণকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় একই পরিবারের ছয়জন আহত হয়েছেন। এ সময় লাঠি, লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা, শ্লীলতাহানি এবং স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ছামিউল ইসলাম (৬০)।

ছামিউল ইসলাম উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের মধ্য বেলকা গ্রামের মৃত মফিজল হকের ছেলে। অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে একই গ্রামের মৃত আজগর আলীর ছেলে ও বেলকা ইউনিয়ন আনসার-ভিডিপির দলনেতা মো. আব্দুর রহমান (৩৫) এবং তার ভাই আঃ রহিম (৪০)সহ আরও কয়েকজনকে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, ছামিউল ইসলাম ও তার ভাগ-শরিকরা দীর্ঘদিন ধরে পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ৮৮ শতক জমি ভোগদখল ও চাষাবাদ করে আসছেন। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে তিনি তার ভাই আনজু মিয়া, আনোয়ার হোসেন ও ভাতিজা মিজানুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে ওই জমিতে আমন ধানের চারা রোপণ করতে যান।

সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আব্দুর রহমান, আঃ রহিমসহ আরও কয়েকজন লাঠি, ছোরা ও লোহার রড নিয়ে জমিতে প্রবেশ করে চারা রোপণে বাধা দেন। একপর্যায়ে তারা ছামিউল ইসলাম ও তার স্বজনদের ঘিরে ধরে হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

হামলায় আহতরা হলেন—ছামিউল ইসলাম (৬০), তার ভাই আনজু মিয়া (৫৩), আনোয়ার হোসেন (৫৫), স্ত্রী মমিনা বেগম (৪৮), আনজু মিয়ার স্ত্রী ছকিনা বেগম (৪৮) ও ছেলে মিজানুর রহমান (২৫)।

এজাহারে বলা হয়, আনজু মিয়ার চোখের নিচে, আনোয়ার হোসেনের মাথায় এবং মিজানুর রহমানের পিঠে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। তাদের রক্ষা করতে এগিয়ে এলে মমিনা বেগম ও ছকিনা বেগমকেও লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তাদের হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, মমিনা বেগমের পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করা হয় এবং তার গলা থেকে ১২ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। চেইনটির আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ছকিনা বেগমের নাকের ফুল খুলে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

ছামিউল ইসলাম অভিযোগ করেন, তাকে লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি দুই হাত দিয়ে তা ঠেকানোর চেষ্টা করেন। এতে তার ডান হাতের কনুইয়ের নিচে গুরুতর জখম হয়। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বেলকা ইউনিয়ন আনসার-ভিডিপির দলনেতা মো. আব্দুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ্ বলেন, “জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় মারামারির অভিযোগে একটি এজাহার পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এসএ