Image description

পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন ও ঘুষ দাবির অভিযোগে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার সাবেক দুই উপপরিদর্শকসহ (এসআই) অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ সরাসরি এজাহার হিসেবে গণ্য করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে এই অভিযোগের বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারকে (এসপি) তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রামের সিনিয়র দায়রা বিশেষ জজ আদালতের বিচারক কাজী আব্দুল হান্নান এই আদেশ দেন। এর আগে গতকাল রবিবার এই বিষয়ে আদালতে দীর্ঘ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন—সাতকানিয়া থানার তৎকালীন এসআই সৈয়দ তারেক ইমরোজ (বর্তমানে আরআরএফ সিলেটে কর্মরত) ও এসআই ফজলুল। তাঁদের সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৬ জন পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন সাতকানিয়ার উত্তর এওচিয়া এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ পারভেজ বাদি হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। বাদির আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, “আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানাকে সরাসরি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারকে পুরো বিষয়টি তদন্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মামলাটি স্পেশাল মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।”

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৮ সালের ২৬ মে দুপুরে পারভেজকে সাতকানিয়া থানার অভ্যন্তরে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। ২৯ মে পর্যন্ত তাঁকে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় পুলিশ সদস্যরা তাঁর কাছে ২ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। নির্যাতনের ফলে তাঁর দুই হাতে গুরুতর জখম হয় এবং বাম কানে প্রচণ্ড আঘাতের কারণে স্থায়ীভাবে শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘুষ না দেওয়ায় শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বাদি মোহাম্মদ পারভেজ জানান, ওই ঘটনার পর প্রায় ২ মাস ৩ দিন তাঁকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকতে হয়েছে। তাঁর কাছে প্রয়োজনীয় মেডিকেল রিপোর্ট ও চিকিৎসার সব নথিপত্র সংরক্ষিত রয়েছে। তিনি বলেন, “আমি চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছি। দীর্ঘ সময় পর হলেও আদালত তদন্তের নির্দেশ দেওয়ায় আমি ন্যায়বিচারের আশা করছি।”

এদিকে মামলার বিষয়ে জানতে এসআই ফজলুলের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

ডিআর