Image description

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের কঠোর নির্দেশনার পর সব অটোরিকশায় সেফটি বার বা গ্রিল লাগানো হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য অর্ধেক ভাড়া কার্যকর হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে যাত্রী ও শিক্ষার্থীদের মাঝে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচল ও অসতর্কতায় প্রায়ই দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যেত। যাত্রী নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা হ্রাসে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রাণী মোদক সম্প্রতি অটোরিকশা চালনার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিশেষ নির্দেশনা জারি করেন। এর মধ্যে প্রতিটি অটোরিকশার ডান পাশে বাধ্যতামূলক সেফটি বার বা গ্রিল স্থাপন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্ধেক ভাড়া আদায় এবং ১৮ বছরের নিচে কাউকে অটোরিকশা চালাতে না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই উপজেলার প্রায় সব অটোরিকশায় সেফটি গ্রিল লাগানো হয়েছে। হাসান আহমেদ নামে এক যাত্রী বলেন, "আগে অটোরিকশায় ওঠার সময় একটা ঝুঁকি কাজ করত। এখন সেফটি গ্রিল থাকায় যাতায়াত অনেক বেশি নিরাপদ মনে হচ্ছে।" জামালগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাসলিমা আক্তার বলেন, "আগে আমাদের কাছ থেকে সাধারণ যাত্রীদের মতোই ভাড়া নেওয়া হতো। ইউএনও স্যারের নির্দেশনার পর এখন হাফ ভাড়া নেওয়া হচ্ছে, এতে আমরা অনেক উপকৃত হচ্ছি।"

জামালগঞ্জ উপজেলা অটোরিকশা সমিতির সভাপতি শিপন সরকার জানান, প্রশাসনের নির্দেশনাকে তারা জনকল্যাণমূলক হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং সব চালককে নিয়ম মেনে গাড়ি চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন। চালক সুমন আহমেদ জানান, ডান পাশে গ্রিল থাকায় এখন যাত্রীরা নির্দিষ্ট এক পাশ দিয়ে নিরাপদে ওঠানামা করতে পারছেন, যা শিশু ও বয়স্কদের জন্য বড় সুরক্ষা।

এ বিষয়ে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রাণী মোদক বলেন, "দুর্ঘটনা এড়াতে ও যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই সেফটি বার লাগানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। মালিক ও চালকরা এটি বাস্তবায়ন করায় তাদের ধন্যবাদ জানাই। তবে শুধু গ্রিল লাগানোই শেষ নয়, বেপরোয়া গতি পরিহার, শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া কার্যকর রাখা এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক চালক না থাকার বিষয়টিও আমাদের নিয়মিত নজরদারিতে থাকবে। নিয়ম ভঙ্গ করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

ডিআর