বিশ্বনাথে ২ কিলোমিটার রাস্তার কাজ শেষ হয়নি ৬ বছরেও, দুর্ভোগে দুই ইউনিয়নবাসী
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় মাত্র দুই কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা পাকাকরণের কাজ ছয় বছরেও সম্পন্ন হয়নি। দুই দফায় টেন্ডার হওয়ার পরও কাজ শেষ না হওয়ায় চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন লামাকাজী ও খাজাঞ্চি ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ। শত বছরের ভোগান্তি দূর করতে নেওয়া এই উদ্যোগটি এখন এলাকাবাসীর জন্য ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ৪ ডিসেম্বর দুই কিলোমিটার এই রাস্তাটি পাকাকরণের কার্যাদেশ পায় ‘বি.এম ট্রেডার্স’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরুই করেনি তারা। পরে কাজ শুরু করলেও কিছু অংশ খুঁড়ে এবং বালু-কংক্রিট ফেলে রহস্যজনক কারণে কাজ বন্ধ করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি।
দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় পথচারী, শিক্ষার্থী ও রোগীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। পরে ২০২৫ সালে পুনরায় ‘রি-টেন্ডার’ বা দ্বিতীয় দফায় টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেয় উপজেলা এলজিইডি অফিস। নতুন কার্যাদেশ অনুযায়ী ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় দফার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও কাজের কোনো অগ্রগতি হয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উত্তর বিশ্বনাথ রেললাইন থেকে রাজাগঞ্জমুখী রাস্তাটির অবস্থা অত্যন্ত করুণ। মধ্য কান্দিগ্রাম হতে রাজাগঞ্জ বাজার পর্যন্ত অংশে বিট বালু ভরাট করে কাজ ফেলে রাখায় সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো সড়ক কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে। খানাখন্দ আর বড় বড় গর্তের কারণে যাতায়াত প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কান্দিগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহীন মিয়া এবং স্থানীয় মুরব্বি ওয়াহাব আলী ও জামাল মিয়া বলেন, "অর্ধেক কাজ করে ফেলে রাখা এই রাস্তাটি এখন আমাদের জন্য অভিশাপ। ছাত্র-ছাত্রীরা কাদামাটি মাড়িয়ে স্কুলে যায়। রোগীদের হাসপাতালে নিতে অবর্ণনীয় কষ্ট হয়। আমরা দ্রুত এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদি লুনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।"
এ বিষয়ে বিশ্বনাথ উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী অনুপ কুমার প্রামাণিক জানান, দ্বিতীয় মেয়াদে রাস্তাটি পাকাকরণ কাজের টেন্ডারের সময় গত জুন মাসে শেষ হয়ে গেছে। এখন পুনরায় নতুন করে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তবেই রাস্তাটির কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
ডিআর




Comments