Image description

প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের বেহাল দশার কারণে পার্শ্ববর্তী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দি ইউনিয়নের বগাইয়া হাওর হাদারবিল এলাকার প্রায় দেড় শতাধিক কোমলমতি শিশু। তাদের শিক্ষার পথ সুগম করতে ৪ বছর আগে স্থানীয় একটি যুব সংগঠনের উদ্যোগে একটি জরাজীর্ণ ক্লাবঘরেই চালু করা হয়েছে ‘বগাইয়া হাওর মডেল সোনালী একাডেমি’।

সরেজমিনে দেখা যায়, দোতলা একটি জরাজীর্ণ ক্লাবঘরকে শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করে শিশুদের পাঠদান করা হচ্ছে। একটি জং ধরা স্টিলের সিঁড়ি বেয়ে চরম ঝুঁকি নিয়ে শিশুরা দোতলায় ওঠে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। ভবনটিতে পর্যাপ্ত দরজা-জানালা নেই, আর যেটুকু আছে তাও ভাঙাচোরা। শ্রেণিকক্ষে নেই ফ্যান বা পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা। এমনকি শিক্ষার্থীদের বসার জন্য প্রয়োজনীয় বেঞ্চ ও টেবিলও নেই।

একাডেমির পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী তানজিনা আক্তার জানায়, “রাস্তাঘাট খারাপ হওয়ায় দূরের সরকারি স্কুলে যেতে পারি না। এই স্কুলের বারান্দা, ফ্যান, দরজা-জানালা কিছুই ঠিক নাই। বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতর পানি পড়ে, তখন আর বসে থাকা যায় না। বেশি বৃষ্টি দিলে আমরা স্কুলেই আসতে পারি না।”

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাদারবিল এলাকার শিশুদের জন্য প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে ‘বগাইয়া হাওর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ থাকলেও যাতায়াতের সড়কটি অত্যন্ত নাজুক। কাঁচা সড়কে মাটি ভরাট না থাকায় বর্ষা মৌসুমে কাদা ও পানির কারণে পথটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। এই দুর্ভোগের কারণে অনেক শিশুর পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হওয়ায় স্থানীয় যুবকরা এই একাডেমিটি চালু করেন। বর্তমানে এখানে প্লে থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১২০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

একাডেমির প্রধান শিক্ষক সেবুল আহমদ বলেন, “যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় শিশুরা দূরের স্কুলে যেতে পারছিল না। শিশুদের পড়াশোনার প্রবল আগ্রহ থাকলেও আমাদের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা অনেক। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে শিশুদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হতো।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য জাকির হোসেন বলেন, “যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় শিশুরা সরকারি স্কুলে যেতে পারে না—এটি সত্য। হাদারবিল থেকে বগাইয়া হাওর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত রাস্তাটি সংস্কার ও মাটি ভরাটের ব্যাপারে ইউনিয়ন পরিষদের মিটিংয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে।”

এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী বলেন, “বিষয়টি আমার আগে জানা ছিল না। খুব দ্রুত এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা এই শিশুদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে দ্রুত স্থায়ী সমাধান ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

ডিআর