Image description

সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে এবং উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে র‍্যাবের ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’-এর আওতায় এক বিশাল সাফল্য অর্জিত হয়েছে। গত ৩১ আগস্ট সুন্দরবনে সক্রিয় ৫টি জলদস্যু বাহিনীর মোট ৫৯ জন সদস্য বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ র‍্যাব-৬-এর নিকট আত্মসমর্পণ করেছে।

এ বিষয়ে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) খুলনাস্থ র‍্যাব-৬-এর সদর দপ্তরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। ব্রিফিংয়ে দস্যুতার কাজে ব্যবহৃত ৫৯টি অস্ত্র উদ্ধার ও আত্মসমর্পণের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন র‍্যাবের মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ, বিপিএম-সেবা।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, দস্যুমুক্ত নিরাপদ সুন্দরবন নিশ্চিতকল্পে গত ২ মার্চ ২০২৬ থেকে শুরু হওয়া বিশেষ অভিযানের ধারাবাহিকতায় ৫৯ জন জলদস্যু অপরাধের পথ পরিহার করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেয়। আত্মসমর্পণকারী বাহিনী ও সদস্য সংখ্যা হলো—বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন, আফতাব বাহিনীর ৮ জন এবং মিজান বাহিনীর ৭ জন।

অভিযানে উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে—৪টি শটগান, ৪৭টি ওয়ান শুটারগান, ৪টি পাইপগান, ৩টি এয়ারগান ও ১টি পয়েন্ট ২২ বোর রাইফেলসহ মোট ৫৯টি আগ্নেয়াস্ত্র। এছাড়াও ৫৪১ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৪টি খালি কার্তুজ এবং ৭টি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে। আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিদের প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

র‍্যাবের মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ বলেন, "সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে ১ সেপ্টেম্বর থেকে পুনরায় পর্যটক ও বনজীবীদের প্রবেশ উন্মুক্ত করা হয়েছে। তার ঠিক একদিন আগেই এই দস্যুদের আত্মসমর্পণ স্থানীয় অর্থনীতি ও জননিরাপত্তায় অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।"

তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত রাখতে র‍্যাবের 'জিরো টলারেন্স' নীতি অব্যাহত থাকবে। সুন্দরবনের গভীরে এখনও যদি কেউ সক্রিয় থাকে, তবে তাদের দ্রুত অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানান তিনি।

ডিআর