Image description

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের শ্রমিক-কর্মচারীদের ট্রেড ইউনিয়নের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন ঘিরে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শ্রমিকদের সঠিক শ্রেণিবিন্যাস, ভোটার তালিকা প্রণয়ন, নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন এবং তলবি সভা আয়োজনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংগঠনের একাংশের সদস্যরা।
অভিযোগকারীদের দাবি, শ্রমিকদের ভোটাধিকার যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য মালিকপক্ষের কাছে শ্রমিকদের শ্রেণিবিন্যাস, অর্গানোগ্রাম, প্রকৃতি ও সংখ্যা জানতে চাওয়া হলেও কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা নির্বাহী পর্যায় থেকে এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শ্রমিক শ্রেণিবিন্যাস ও অর্গানোগ্রাম ছাড়া ট্রেড ইউনিয়নের প্রকৃত সদস্য ও ভোটার নির্ধারণের সঠিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলেও দাবি তাদের।
অভিযোগ রয়েছে, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চাকরি সংক্রান্ত বিধি-বিধান ১৯৯১ সালে প্রণীত হওয়ার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের পরিচয় এবং শ্রেণিবিন্যাস নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
তাদের অভিযোগ, এ সুযোগে মালিকপক্ষের কয়েকজন ব্যক্তি ট্রেড ইউনিয়নের নির্বাহী কমিটিতে প্রবেশ করে কর্মচারীদের সংগঠনের আইনানুগ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করছেন। ২০০৯ সালে সংগঠনটির নিবন্ধন হলেও শ্রমিক শ্রেণিবিন্যাসের জটিলতার কারণে নিয়মিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি বলেও দাবি করা হয়েছে।
২০২৬ সালের নির্বাচন নিয়েও উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, গত ১৩ জুলাই তলবি সভার মাধ্যমে যে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়, পরবর্তীতে ৯ আগস্ট নাসির উদ্দিন চৌধুরী স্বাক্ষরিত পত্রে ওই কমিটি বাতিল করা হলেও সেই কমিটিকে দিয়েই নির্বাচন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র জুলফিকার আলী এবং সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ট্রাফিক বিভাগের ডেপুটি ট্রাফিক ম্যানেজার সোহাগ। কমিটির সদস্য ও বন্দর কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা নিয়ামুর রহমান ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন। এরপরও কমিটি অপূর্ণ অবস্থায় নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তলবি সভার জন্য সাত দিনের নোটিশ দেওয়ার বিধান থাকলেও মাত্র চার দিনের নোটিশে সভা আহ্বান করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই সভায় মাত্র ৪৪ জন কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
তলবি সভা আহ্বানের পদ্ধতি, উপস্থিতি এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে রেজুলেশন ও কমিটি বাতিলের আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে এডহক কমিটির বৈধতা নিয়ে ট্রাইব্যুনাল ও হাইকোর্ট বিভাগে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে বলেও জানা গেছে।
এদিকে, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে সংগঠনের সাধারণ সদস্য মোঃ শাহ আলম সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে। এডহক কমিটির সদস্য নাঈমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের অভিযোগ, বিতর্কিত প্রক্রিয়ায় নির্বাচন হলে সাধারণ সদস্যরা আর্থিক ও সাংগঠনিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, শ্রমিকদের প্রকৃত পরিচয় ও শ্রেণিবিন্যাস নিশ্চিত না করে নির্বাচন আয়োজন করা হলে পুরো ভোটপ্রক্রিয়ার বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। এমনকি নির্বাচন শেষে নবনির্বাচিত কমিটির অনুমোদন ও প্রত্যয়ন নিয়েও জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এসএ