কিশোরীকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগে দেড় বছর পর অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
পটুয়াখালীতে এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর অভিযোগে দীর্ঘ এক বছর আট মাস পর মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরী নিজে বাদী হয়ে মো. সাগর হাওলাদার (৩২) নামে এক যুবককে অভিযুক্ত করে পটুয়াখালী সদর থানায় এই মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযুক্ত সাগরকে গ্রেপ্তার করে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আদালতে সোপর্দ করেছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদিনী ও আসামির পরিবার শহরের বহালগাছিয়ার গরুর বাঁধ এলাকায় প্রতিবেশী হিসেবে বসবাস করত। এই সুবাদে তাদের মধ্যে পরিচয় ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ২০২৫ সালের ১০ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে সাগর ওই কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এক পর্যায়ে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে সাগর তাকে জোরপূর্বক গর্ভপাত করান। পরিবারের সম্মান ও সামাজিক লোকলজ্জার ভয়ে বিষয়টি তখন গোপন রাখা হয়।
পরবর্তীতে ওই কিশোরীর অন্য জায়গায় বিয়ে হয়। বিয়ের পর বিষয়টি তাঁর স্বামী জানতে পারলে তিনি কিশোরীকে বাবার বাড়িতে রেখে যান এবং যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। স্বামীর সংসার ভেঙে যাওয়ার পরই ওই কিশোরী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বিয়ে হওয়ার কারণে মামলা করতে বিলম্ব হয়েছে বলে তিনি এজাহারে উল্লেখ করেছেন।
এদিকে, ঘটনার দীর্ঘ সময় পর মামলা দায়ের এবং এজাহারে দেওয়া বাদিনীর মোবাইল নম্বরটি বন্ধ থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। বাদিনীর বক্তব্য নেওয়ার জন্য দেওয়া নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, “মামলার ভিত্তিতে অভিযুক্ত সাগরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষেই প্রকৃত ঘটনাটি পরিষ্কার হবে।”
ডিআর




Comments