নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা বাড়ানোর আহ্বান
তৃণমূল নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা এবং সরকারের বিদ্যমান সেবা ব্যবস্থার সাথে তাদের সংযোগ স্থাপনে কাজ করছে নারীপক্ষ। এ লক্ষ্যে নরসিংদীতে "নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক অধিকার: জেন্ডার-সংবেদনশীল গণমাধ্যমের ভূমিকা" শীর্ষক এক সংবাদকর্মী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 'Advantage GIZ project'-এর সহায়তায় নারীপক্ষের 'স্থানীয় সম্পৃক্ততায় নারীর কর্মপ্রসার' প্রকল্পের অধীনে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় এসডি টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক ফাহিমা খানমের সঞ্চালনায় নারীপক্ষ প্রকল্প পরিচালক রওশনারা ও সহ ব্যবস্থাপক লিলিয়ান রোজারিও বক্তব্য রাখেন।
সভায় বক্তারা বলেন, দেশের প্রায় ৩৬ শতাংশ নারী বর্তমানে অর্থনৈতিক বা আয়মূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত। বেশিরভাগ নারী এখনও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতেই রয়ে গেছেন। এ বাস্তবতায় তৃণমূল নারীদের অধিকার, দক্ষতা উন্নয়ন ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কিত তথ্য প্রচার করে গণমাধ্যম ইতিবাচক ও কার্যকর পরিবর্তন আনতে পারে।
নারীপক্ষের সদস্য ও প্রকল্প পরিচালক রৌশন আরা জানান, ১৯৮৩ সাল থেকে সংগঠনটি নারীর অধিকার, বৈষম্য নিরসন ও সহিংসতা প্রতিরোধে কাজ করে আসছে। তিনি আরও বলেন, নরসিংদীর কাওরিয়াপাড়ায় 'শি লিডস ক্যাফে' বা 'বন্ধু আসর' নামের দুটি কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রান্তিক নারীদের একত্রিত করে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে (যেমন: মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, সমাজসেবা, যুব উন্নয়ন ও টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার) প্রশিক্ষণ গ্রহণের বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
প্রকল্পের আওতায় ইতিপূর্বে বিভিন্ন ট্রেডে নারীদের দক্ষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ জন সেলাই, ৫ জন বিউটিফিকেশন, ৬ জন ব্লক-বাটিক, ৩ জন বেকিং এবং বিআরটিএ-এর মাধ্যমে ৭ জন নারী ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন।
প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ৪ জন চ্যাম্পিয়ন এবং দুটি 'বন্ধু আসর'-এর ৪৮ জন সদস্য এলাকায় সহিংসতা প্রতিরোধ, স্বাস্থ্যসেবা ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমে ভূমিকা রাখছেন।
আয়োজকরা জোর দিয়ে বলেন, নারীদের কেবল ভুক্তভোগী হিসেবে না দেখিয়ে তাদেরকে দক্ষ কর্মী, উদ্যোক্তা ও সমাজের পরিবর্তনের মূল অংশীদার হিসেবে গণমাধ্যমে উপস্থাপনা করা প্রয়োজন। নারী ও কন্যা শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে পারিবারিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতেও সাংবাদিক ও সচেতন সমাজের যৌথ উদ্যোগ অপরিহার্য।
এসএ




Comments