Image description

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা মডেল কিন্ডারগার্টেনের অংক শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে অংক না পারায় পাঁচ কিশোরীসহ সাত শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পেটানোর অভিযোগ উঠেছে। এতে শিক্ষার্থীদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত ও আঘাতের দাগ হয়েছে। বর্তমানে তারা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

অভিযুক্ত শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত এক শিক্ষার্থীর বাবা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ স্থানীয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা মডেল কিন্ডারগার্টেনের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া, জেসমিন, হামিদা, ঐশি হক, রওজা, মাহি ও খুশি প্রতিদিনের মতো সেদিনও বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়। বাংলা ও ইংরেজি ক্লাস শেষে অংক শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন আকন্দ শ্রেণিকক্ষে এসে শিক্ষার্থীদের কয়েকটি অংক করতে দেন।

কয়েকজন শিক্ষার্থী অংকগুলো করতে পারলেও অনেকেই অংকগুলো আগে শেখানো না হওয়ায় সঠিকভাবে সমাধান করতে পারেনি। এতে শিক্ষক ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কঞ্চি দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সাত শিক্ষার্থী আহত হয়।

ঘটনার পর শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন বিদ্যালয় থেকে চলে যান বলে জানা গেছে।

বিদ্যালয় ছুটির পর বাড়িতে ফিরে শিক্ষার্থীরা তাদের বাবা-মায়ের কাছে ঘটনার কথা জানায়। কয়েকজন শিক্ষার্থী কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং আর ওই বিদ্যালয়ে যাবে না বলেও জানিয়েছে।

আহত এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক এনামুল হক বলেন, লোকলজ্জার কারণে তারা স্থানীয়ভাবে শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা করাচ্ছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

অভিযুক্ত শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “অংক না পারায় লাঠি নয়, কঞ্চি দিয়ে মারপিট করেছি।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাজাহান সরদার বলেন, বিষয়টি সমাধানের জন্য বিদ্যালয়ে বৈঠক করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি শুক্রবার দুপুরে মুঠোফোনে বলেন, “বিষয়টি জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এসএ