ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভার চারআনিপাড়া মহল্লায় দীর্ঘদিন ধরে স্ল্যাববিহীন অবস্থায় পড়ে থাকা গভীর ড্রেনে পড়ে প্রান্ত মিয়া নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত প্রান্ত মিয়া উপজেলার চণ্ডীপাশা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় সে অকৃতকার্য হয়েছিল।
স্থানীয়রা জানান, গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) চারআনিপাড়া মহল্লায় বাড়ির সামনে স্ল্যাববিহীন গভীর ড্রেনে পড়ে যায় প্রান্ত। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। সেখানে চিকিৎসা চলছিল। শনিবার সকালে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বাবা রবি মিয়া। স্বজনদের আহাজারিতে চারআনিপাড়া এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১৮ সালে জাইকার অর্থায়নে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে দক্ষিণ চারআনিপাড়া সড়কের পাশে ড্রেনটি নির্মাণ করা হয়। তবে নির্মাণের পর থেকে এর ওপর কোনো স্ল্যাব বা ঢাকনা দেওয়া হয়নি। প্রায় আট বছর ধরে ড্রেনটি এভাবেই পড়ে রয়েছে।
দীর্ঘদিন অযত্নে পড়ে থাকায় ড্রেনটি লতাপাতা, আগাছা ও মৌসুমি সবজির চারা দিয়ে ঢেকে গেছে। এতে ড্রেনটি পথচারীদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েক বছরে ওই ড্রেনে পড়ে অনেকেই আহত হয়েছেন। তাঁদের কেউ কেউ গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গুত্বও বরণ করেছেন। এরপরও ড্রেনটি নিরাপদ করার জন্য কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
প্রান্তের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনটি স্ল্যাববিহীন অবস্থায় পড়ে থাকার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতাকে দায়ী করেছেন এলাকাবাসী। তাঁরা দ্রুত ড্রেনটি ঢেকে দেওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
নান্দাইল পৌরসভার প্রকৌশলী উত্তম কুমার দাস বলেন, ‘আমি নতুন যোগ দিয়েছি। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজের কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে খুব দ্রুত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এসএ




Comments