সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৪২৭
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে কোরবানের আলী রিফাত (১৭) নামে আরও এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। নিহত রিফাত উপজেলার ৮ নং সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের কাজলীপাড়া গ্রামের মো. ইউনূসের ছেলে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ভোর চারটার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার থেকে রিফাত তীব্র জ্বরে আক্রান্ত হয়। পরবর্তীতে সোমবার সকালে তাঁকে বাংলাবাজারস্থ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে চমেক হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়।
এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর একই ইউনিয়নের ফুলতলা গ্রামে মো. মুজাহিদুল ইসলাম নামে ৪ বছর বয়সী এক শিশুর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়। ১৫ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভাটিয়ারী ইউনিয়নের তুলাতলী গ্রামের মো. রাফসান নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে ১৭ সেপ্টেম্বর সীতাকুণ্ড পৌরসভার আমীরবাদ এলাকার পাঁচ বছর বয়সী শিশু সিরাজুল মনিরা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। তথ্যমতে, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ৯ দিনের ব্যবধানে সীতাকুণ্ডে দুই শিশুসহ মোট ৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যানুসারে, বর্তমানে সীতাকুণ্ড উপজেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪২৭ জনে।
এদিকে সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটের বিআইটিআইডি হাসপাতালে ভাইরাসজনিত জ্বরে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন শিশুসহ ৭০ থেকে ৮০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। তবে এদের মধ্যে সিংহভাগই ডেঙ্গু আক্রান্ত কোমলমতি শিশু ও কিশোর। প্রতিদিন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হলেও এখন পর্যন্ত এই হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
চিকিৎসকেরা জানান, বর্তমান সময়ে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে ঘরবাড়ির চারপাশের পাত্রে পানি জমে থাকছে। এ ধরনের আবহাওয়ায় ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশার বংশবিস্তার দ্রুত ঘটে, যা সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও ভোগান্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্লিনিক্যাল ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. মামুনুর রশীদ জানান, চলতি মৌসুমে ভাইরাসজনিত জ্বরে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। তার সাথে স্বাভাবিক সর্দিজ্বর তো রয়েছেই। বর্তমানে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন হাসপাতালে ৭০ থেকে ৮০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছেন, যাদের বড় অংশই ডেঙ্গু আক্রান্ত।
তিনি আরও জানান, এ বছর নতুন করে যুক্ত হয়েছে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব। যা আগে কখনও এত বেশি দেখা যায়নি। বর্তমানে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে প্রায় ৪২ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন, যাদের সম্পূর্ণ আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ডেঙ্গু ছোঁয়াচে না হলেও হাম অত্যন্ত সংক্রামক ও বিপজ্জনক, যা বাতাসের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৮০ জনেরও বেশি শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক জ্বর নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ডেঙ্গু ও ভাইরাল জ্বরে অতিরিক্ত রোগীর চাপে হাসাপাতালের চিকিৎসকদের সেবা দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সাধারণত বর্ষা ও শীত মৌসুমে শ্বাসনালীর ভাইরাসজনিত সংক্রমণের কারণে জ্বরের প্রাদুর্ভাব বেশি থাকে। ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে একটানা ১০১ থেকে ১০২ ডিগ্রি তাপমাত্রা থাকা, ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ার পর পুনরায় জ্বর আসা এবং শরীর ব্যথা, মাথা ব্যথা ও চোখের পেছনে ব্যথার অনুভূতি হওয়া অন্যতম।
ডিআর




Comments