Image description

 হবিগঞ্জ শহরের রাজনগরে অবস্থিত 'জান্নাতুল মাওয়া কওমী মাদ্রাসা'য় ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক স্কুলছাত্রকে বলাৎকারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে মাওলানা সাদেকুল ইসলাম (৩৫) নামে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর জিনের ভয় দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। খবরটি জানাজানি হলে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে স্থানীয় জনতার সহায়তায় অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। আটক সাদেকুল ইসলাম নবীগঞ্জ উপজেলার কুরশি ইউনিয়নের রাব্বানী মিয়ার ছেলে। আর ভুক্তভোগী শিশুটি হবিগঞ্জ শহরের 'দি রোজেস স্কুল'-এর ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার কথা বলে ওই শিক্ষার্থীকে কৌশল করে মাদ্রাসায় নিয়ে যান মাওলানা সাদেকুল ইসলাম। সেখানে তাকে জোরপূর্বক বলাৎকার করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ঘটনাটি কাউকে জানালে জিনের মাধ্যমে মেরে ফেলার হুমকি দেন ওই শিক্ষক।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী ছাত্র তার মেসে ফিরে বিষয়টি জনৈক সাংবাদিককে জানায়। একপর্যায়ে স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে সংগঠিত হয়ে মাদ্রাসায় ঘেরাও করে শিক্ষককে আটক করেন এবং পুলিশে খবর দেন।

এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষককে সদর থানায় নিয়ে যাওয়া হলে অন্য কয়েকজন মাদ্রাসা শিক্ষক থানায় পৌঁছালে বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে তাঁদের উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রের বাবা বানিয়াচং উপজেলার সাঙ্গর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রউফ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চলছে।

ডিআর