Image description

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে ধলেশ্বরী নদীর তীব্র স্রোত ও ভাঙনের কবলে পড়ে আসবাবপত্রসহ একটি আস্ত বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর উপজেলার কেয়াইন ইউনিয়নের বড় বর্তা গ্রামে ভয়াবহ এ ঘটনাটি ঘটে। বর্তমানে নদীকূলে থাকা আরও অন্তত ১৫টি পরিবার ভিটেমাটি হারানোর মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।

ভুক্তভোগী গফুর শেখ আকস্মিক এ বিপর্যয়ের বর্ণনা দিয়ে বলেন, "হঠাৎ করেই তীব্র স্রোতে নদীর পাড় ভাঙতে শুরু করে। আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই চোখের সামনে বসতঘরটি নদীতে তলিয়ে যায়। ঘরের কোনো আসবাবপত্র কিংবা ঘরের প্রয়োজনীয় মালামাল বের করে আনারও সুযোগ পাইনি।"

ঘটনার খবর পেয়ে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নদীভাঙনকবলিত দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে যান মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. আব্দুল্লাহ। পরিদর্শনকালে তিনি ক্ষয়ক্ষতির তীব্রতা দেখে সরাসরি ভিডিও কলের মাধ্যমে পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির সাথে কথা বলেন এবং ভাঙনের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে দ্রুত প্রতিরক্ষা বাঁধ ও ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

পরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে সংসদ সদস্য শেখ মো. আব্দুল্লাহ বলেন, "ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক। খবর পাওয়ার পরপরই স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে পাঠিয়েছিলাম এবং আজ নিজেই আপনাদের দুর্ভোগ দেখতে এসেছি। পানিসম্পদ মন্ত্রীর সাথে কথা বলেছি, আপনারা নিরাশ হবেন না। বর্তমান সরকার আপনাদের পাশে রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

এদিকে নদীভাঙনের কারণ হিসেবে স্থানীয় বাসিন্দারা তীরবর্তী এলাকায় অবৈধ মাটি কাটার অভিযোগ তুললে সংসদ সদস্য কঠোর হুঁশিয়ারি দেন এবং নদী থেকে অবৈধভাবে বালু ও মাটি কাটা বন্ধে সংবাদকর্মী ও এলাকাবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন। ভাঙন ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকেও প্রয়োজনীয় সব সরকারি সহায়তা দেওয়ার আশ্বস্ত করা হয়।

পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্যের সাথে সিরাজদীখান উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম হায়দার আলী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুম্পা ঘোষসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

ডিআর