Image description

নেত্রকোনা শহরের প্রবেশমুখ সাকুয়া বাজার। নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ এই পয়েন্টে রয়েছে একটি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক। এর সঙ্গে সড়কের ওপর বাজার, মানুষের ভিড় ও বিভিন্ন স্থাপনা থাকায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কায় রয়েছেন পথচারী ও যানবাহনের চালকেরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিকেল হলেই বাঁকের আশপাশে মহাসড়কের ওপর বাজার বসে। এতে সড়কের জায়গা সংকুচিত হয়ে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। বাঁক নেওয়ার সময় দ্রুতগতির বাস, ট্রাক, সিএনজি ও অটোরিকশার চালকদের দৃষ্টিসীমাও বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এ এলাকায় অতীতেও একাধিক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০২৩ সালের ৯ জুলাই বাস ও সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের বাবা ও ছেলে নিহত এবং আরও চারজন আহত হন। ২০২২ সালের মার্চে বিকল একটি ট্রাকে পিকআপের ধাক্কায় দুজন নিহত ও একজন আহত হন। এছাড়া ২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট কাভার্ড ভ্যান ও অটোরিকশার সংঘর্ষে একজন নিহত ও একজন আহত হন।

স্থানীয়রা জানান, ২০২১ সালে জেলা প্রশাসন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কর্মকর্তারা সাকুয়া বাজার এলাকা পরিদর্শন করেন। দুর্ঘটনা রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালনা করা হয়। তবে কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকটির স্থায়ী সমাধান হয়নি।

সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এআরএফবির স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ বছরে সাকুয়া বাজার এলাকায় ১৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। তবে এ তথ্য সরকারি নথির মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এলাকাবাসীর দাবি, প্রথমে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকটির প্রকৌশলগত সমস্যা নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি মহাসড়কের ওপর বাজার বসা বন্ধ, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন, যানবাহনের গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ এবং পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগেই সাকুয়া বাজারকে নিরাপদ করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। কারণ সাকুয়া বাজার শুধু একটি বাজার নয়, এটি নেত্রকোনা শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ। তাই উন্নয়নের পাশাপাশি এ এলাকায় নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এসএ