২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতের বিল ৫০৬ কোটি টাকা, ফোনে জ্বালানি মন্ত্রীর দুঃখপ্রকাশ
মাগুরায় মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে এক আবাসিক গ্রাহকের নামে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার ভৌতিক বিদ্যুৎ বিল ইস্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অস্বাভাবিক এই বিল দেখে হতবাক হন গ্রাহক ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। বিষয়টি জানাজানি হলে তড়িঘড়ি ভুল স্বীকার করে বিল সংশোধন করেছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে নজিরবিহীন এই গাফিলতির ঘটনায় ভুক্তভোগী গ্রাহককে সরাসরি ফোন করে অনুশোচনা ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন জ্বালানি মন্ত্রী।
ভুক্তভোগী মোছা. আলেয়া খাতুন মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী। তাঁর নামে সেপ্টেম্বর (২০২৬) মাসের এই বিদ্যুৎ বিলটি ইস্যু করা হয়।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে ব্যাংকে যান আলেয়া খাতুন। তখন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায় তাঁর বিলের পরিমাণ অস্বাভাবিক বেশি হওয়ায় তা গ্রহণ করা হচ্ছে না। এরপর পরদিন সকালে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তারা তাঁর বাড়িতে গিয়ে ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা ২৬ মিনিটে খোদ জ্বালানি মন্ত্রী ভুক্তভোগী গ্রাহককে ফোন করে এত বড় ভুল বিদ্যুৎ বিলের জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার আশ্বাস দেন।
বিলের বিস্তারিত নথিপত্র অনুযায়ী, গত ৮ সেপ্টেম্বর মিটারের বর্তমান রিডিং ছিল ৩৯৫ এবং ৮ আগস্টের পূর্ববর্তী রিডিং ছিল ১৬০। অর্থাৎ এক মাসে ওই গ্রাহকের প্রকৃত বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে মাত্র ২৩৫ ইউনিট। তবে বিলে ২৩৫ ইউনিটের বিপরীতে অদ্ভুতভাবে ডিমান্ড চার্জ দেখানো হয় ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা! এর সাথে ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাট এবং ১০ টাকা মিটার ভাড়া যোগ করে মোট বিল দাঁড়ায় ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ না করলে বিলম্ব মাশুলসহ বিল দাঁড়াত ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ ৭৬৪ টাকা। অথচ ২৩৫ ইউনিটের বিপরীতে প্রকৃত বিল ছিল মাত্র ১ হাজার ৯৬৩ টাকা (বিলম্ব মাশুলসহ ২ হাজার ৫৬ টাকা)।
ঘটনার বিষয়ে শালিখা উপজেলার চুকিনগরে অবস্থিত মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিম অস্বাভাবিক বিলের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, "গ্রাহকের মিটার পরিবর্তনের কারণে ভুলবশত মিটারের সিল নম্বরের ডিজিটগুলো ডিমান্ড চার্জের ঘরে পোস্টিং হয়ে যায়। ফলে এই ভৌতিক বিল তৈরি হয়। বিলটি ইতিমধ্যে সংশোধন করে গ্রাহকের হাতে পৌঁছানো হয়েছে। এই ভুলের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
তবে এত বিপুল অঙ্কের ভৌতিক বিল কীভাবে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের নজর এড়িয়ে গ্রাহকের হাতে পৌঁছাল, তা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। বিদ্যুৎ বিভাগের ডিজিটাল বিলিং সিস্টেমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা।
ডিআর




Comments