সেন্টমার্টিনের অদূরে বঙ্গোপসাগরের গভীরে ভাসমান এক কাঠের ট্রলার থেকে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ৬৫ জন মালয়েশিয়াগামী অবৈধ যাত্রী ও মানবপাচারকারী চক্রের ১১ সদস্যকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সফল অভিযানের কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাতে সেন্টমার্টিন লাইট হাউজ থেকে প্রায় ৮১ মাইল দূরে গভীর সাগরে একটি সন্দেহভাজন কাঠের বোটকে ভাসতে দেখে স্থানীয় মাছ ধরার ট্রলার 'এফভি ক্রিস্টাল-১'। বোটটিতে থাকা লোকজনের চালচলন সন্দেহজনক মনে হলে ট্রলারের জেলেরা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সমুদ্রসীমায় টহলরত নৌবাহিনীকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে নিয়মিত টহলে থাকা নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ 'বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ' দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
নৌবাহিনী জানায়, অভিযানের সময় দেখা যায় ট্রলারটির ইঞ্জিন ও সেচ পাম্প বিকল হয়ে ট্রলারে দ্রুত পানি ঢুকছিল এবং সেটি মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছিল। নৌবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত পাম্প বসিয়ে পানি নিষ্কাশন করে বোটটি নিয়ন্ত্রণে নেন এবং ভেতরে থাকা ৭৬ জন সদস্যকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে নৌবাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৬৫ জন প্রতারণার শিকার হয়ে সাগরপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন। আর বাকি ১১ জন আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। চক্রটি অধিকাংশ ভুক্তভোগীকে টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আটকে রেখে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ট্রলারে তুলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মালয়েশিয়ায় পাচারের চেষ্টা করছিল। নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা, বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সরবরাহ করা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শুক্রবার সকালে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, “গভীর সাগর থেকে উদ্ধার ও আটকদের থানায় আনা হচ্ছে। তবে তারা এখনো এসে পৌঁছাননি।”
বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় মানব পাচার, চোরাচালান ও যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নৌবাহিনীর কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত টহল অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
ডিআর




Comments