Image description

বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও বাঙালির লোকজ সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরে ‘বেস্ট ক্রিয়েটিভ অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছেন গাজীপুরের তরুণ ফ্যাশন ডিজাইনার মো. রাব্বি। চীনে অনুষ্ঠিত ‘দ্য ফোর্থ ইন্টারন্যাশনাল ফোক গিফটস ইনোভেটিভ ডিজাইন কনটেস্ট’-এ অংশ নিয়ে এ সম্মাননা অর্জন করেন তিনি। পহেলা বৈশাখের ঐতিহ্য, রং ও বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয়কে আধুনিক ফ্যাশন ডিজাইনে ফুটিয়ে তুলে বিচারকদের নজর কাড়েন রাব্বি।

রাব্বির বাড়ি গাজীপুর সদর উপজেলার বাড়িয়া ইউনিয়নের ছোট কয়ের গ্রামে। গ্রামের এ কৃতী শিক্ষার্থীর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এমন অর্জনে আনন্দিত ও গর্বিত স্থানীয়রা।

আন্তর্জাতিক এ প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও লোকজ উপাদানকে সৃজনশীল ডিজাইনের মাধ্যমে উপস্থাপনের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। প্রতিযোগিতাটির আয়োজন করে সাংহাই ফ্যাশন অ্যাকসেসরিজ সোসাইটি। এতে সহযোগী হিসেবে ছিল চীনের ডংহুয়া ইউনিভার্সিটির সাংহাই ইন্টারন্যাশনাল ফ্যাশন ইনোভেশন সেন্টার, কলেজ অব হিউম্যানিটিজসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান।

২০২৬ সালের আইএসএফএস অ্যাওয়ার্ডের আওতায় শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় রাব্বি তাঁর ডিজাইনকর্মে বাঙালির সর্বজনীন উৎসব পহেলা বৈশাখের আবহ তুলে ধরেন। নকশায় স্থান পায় বাংলাদেশের লোকজ মোটিফ, ঐতিহ্যবাহী নকশা, উৎসবের রং এবং বাঙালির নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়ের নানা অনুষঙ্গ।

রাব্বির নকশা করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে মোজা, মেয়েদের ওড়না, টি-শার্ট ও কেপ। দৈনন্দিন ব্যবহারের এসব ফ্যাশন পণ্যে দেশীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার সমন্বয় ঘটিয়েছেন তিনি। প্রচলিত ফ্যাশন পণ্যের নকশায় বাঙালির সংস্কৃতিকে নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপনের এ প্রচেষ্টাই তাঁর কাজকে দিয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।

বর্তমানে মো. রাব্বি চীনের উহান টেক্সটাইল ইউনিভার্সিটিতে ফ্যাশন ডিজাইন বিষয়ে পিএইচডি করছেন। উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি ফ্যাশন, টেক্সটাইল ও সৃজনশীল ডিজাইন নিয়ে গবেষণার পাশাপাশি কাজ করছেন তিনি।

নিজের এ অর্জনে আনন্দ প্রকাশ করে রাব্বি মানবকন্ঠকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এমন একটি সম্মাননা অর্জন করতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত ও গর্বিত। এ অর্জন শুধু আমার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বাংলাদেশের ফ্যাশন ও সৃজনশীল ডিজাইন অঙ্গনের জন্যও অনুপ্রেরণার বিষয়। আমার ডিজাইনে দেশীয় ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি ও আধুনিকতার সমন্বয় ঘটানোর চেষ্টা করেছি। আন্তর্জাতিক এ স্বীকৃতি ভবিষ্যতে আরও নতুন ও সৃজনশীল কাজ করতে আমাকে উৎসাহিত করবে। আমি চাই, বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে বিশ্বের সামনে আরও সুন্দরভাবে তুলে ধরতে।’

সংশ্লিষ্টদের মতে, ফ্যাশন কেবল পোশাক কিংবা ব্যবহার্য পণ্যের নকশার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরারও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। পহেলা বৈশাখের মতো বাঙালির সর্বজনীন উৎসবকে আধুনিক ফ্যাশন ডিজাইনে উপস্থাপনের মাধ্যমে রাব্বি বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

গাজীপুর সদর উপজেলার বাড়িয়া ইউনিয়নের ছোট কয়ের গ্রামের সন্তান রাব্বির এ আন্তর্জাতিক অর্জন স্থানীয় পর্যায়েও গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে। নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধারণ করেও যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য অর্জন সম্ভব, তাঁর এ অর্জন তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

ডিআর