বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। মাছ ও ব্রয়লার মুরগি এখন আর ২০০ টাকার নিচে মিলছে না। এছাড়া প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১৫০ টাকায় এবং গরুর মাংসের কেজি ৮০০ টাকার আশপাশে। ব্রয়লার, পাঙাশ ও তেলাপিয়ার মতো পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর তীব্র চাপ বাড়ছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম আরও বেড়েছে। তবে শুধুমাত্র গরুর মাংসের দাম কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে মাছের দাম প্রতি কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায় এবং ডিমের ডজন ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ২০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে সোনালি, হাইব্রিড ও লেয়ার মুরগির দামে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। বাজারে সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা, হাইব্রিড ২৯০ থেকে ৩০০ এবং লেয়ার ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারে গিয়ে দেখা যায়, পুকুরে চাষ করা পাঙাশ, তেলাপিয়া, রুই, কাতলা ও মৃগেল মাছের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা। প্রতি কেজি জীবিত পাঙাশ ২৩০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মানভেদে চিংড়ির কেজি ৮০০ থেকে ৯০০, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০, বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রূপচাঁদা ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে গুনতে হচ্ছে কেজিতে হাজার টাকার বেশি।
পাহাড়তলী বাজারের মুরগি বিক্রেতা মাহবুব বলেন, বাজারে মুরগির চাহিদা থাকলেও সরবরাহ সেভাবে নেই। গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। সরবরাহ ভালো না হওয়া পর্যন্ত দাম কমার সম্ভাবনা কম। একই বাজারের মাছ বিক্রেতা খোকন জানান, চাষের মাছের দামও এখন চড়া। তাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলে বিক্রিও করতে হচ্ছে বেশি দামে। এতে ব্যবসায় বেশি পুঁজি লাগছে।
বাজারে কেনাকাটা করতে আসা আলমগীর ভুঁইয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ব্রয়লার মুরগি, পাঙাশ ও তেলাপিয়া নিম্নবিত্তের মানুষের শেষ ভরসা। এগুলোর দাম বাড়লে আমাদের সরাসরি বড় সংকটে পড়তে হয়। দেশি মুরগি বা বড় মাছ কেনা আমাদের মতো মানুষের পক্ষে এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।"
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments