চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় বর্ষা মৌসুমে সাপের উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় হাসপাতাল, জনপ্রতিনিধি ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এই উপজেলায় বছরে চার শতাধিক মানুষ সাপে কাটার শিকার হচ্ছেন। তবে বিপুলসংখ্যক রোগীর বিপরীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম সংরক্ষণের সীমাবদ্ধতা থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
চার লাখের বেশি জনসংখ্যার এই উপজেলায় অর্ধলাখেরও বেশি মানুষ চরাঞ্চলে বসবাস করেন। এছাড়া ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে জলাবদ্ধতা, প্রকল্পের রাস্তার দুই পাশে ঘন ঝোপঝাড় এবং পরিবেশের ভারসাম্যহীনতার কারণে সাপের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও চিকিৎসকরা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্যমতে, প্রতি মাসে গড়ে ২০ জনের বেশি সাপে কাটা রোগী সেখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। এ ছাড়া যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার রোগীরা পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল, মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, চাঁদপুর জেলা সদর হাসপাতাল এবং দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। সব মিলিয়ে বছরে এই আক্রান্তের সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়ে যায়।
মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ও ভ্যাকসিন সংরক্ষণ কর্মকর্তা ডা. মোবারক হোসেন বলেন, “বাংলাদেশে জুন, জুলাই, আগস্ট ও অক্টোবর মাসে সাপের কামড়ের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে। কারণ, এ সময়ে সাপ প্রজনন ও শিকারের জন্য সবচেয়ে সক্রিয় থাকে।”
চিকিৎসকরা জানান, বিষধর সাপে কামড় দিলে রোগীর অবস্থা ভেদে একাধিক ডোজ অ্যান্টিভেনম প্রয়োজন হয়। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাজন কুমার দাস বলেন, “বর্তমানে সরকারি বিধি অনুযায়ী উপজেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ দুইজন রোগীর জন্য অ্যান্টিভেনম সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু এই উপজেলায় সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী অ্যান্টিভেনমের জোগান দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।”
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. শাহরিয়ার হোসেন সতর্ক করে বলেন, “সাপে কাটার সঙ্গে সঙ্গে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। ওঝা বা কবিরাজের কাছে গিয়ে মূল্যবান সময় নষ্ট করা জীবনঘাতী হতে পারে।”
স্থানীয়দের দাবি, সাপের উপদ্রব প্রবণ এই এলাকায় জীবন রক্ষাকারী অ্যান্টিভেনমের মজুদ বাড়ানো এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।
ডিআর




Comments