Image description

বাগেরহাটের রামপালে অবস্থিত ১৩২০ মেগাওয়াট সক্ষমতার কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। সাময়িক বন্ধ থাকার পর পুনরায় চালুকৃত কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩২১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে, যা মূল কেন্দ্রটির নির্ধারিত উৎপাদন সক্ষমতার চেয়েও ১ মেগাওয়াট বেশি। উৎপাদিত এ বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ নিরবচ্ছিন্নভাবে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন এই সর্বোচ্চ রেকর্ডে পৌঁছায়। এ সময় কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে ৬৫৬ মেগাওয়াট এবং দ্বিতীয় ইউনিট থেকে ৬৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছিল। দুটি ইউনিট মিলিয়ে মোট উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ হাজার ৩২১ মেগাওয়াট।

উৎপাদনের নতুন রেকর্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের উপ-মহাব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ) আনোয়ারুল আজিম দৈনিক মানবকণ্ঠকে জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কিছুদিন কেন্দ্রটির দুটি ইউনিটই বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরবর্তীকালে কারিগরি ত্রুটি সফলভাবে মেরামতের পর পুনরায় চালু করা হলে মোট উৎপাদন পূর্বের রেকর্ড অতিক্রম করে। বর্তমানে কেন্দ্রটিতে সম্পূর্ণ নিরাপদে ও নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন চলমান রয়েছে এবং জাতীয় গ্রিডের চাহিদা অনুযায়ী তা নিয়মিত সরবরাহ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে ২০১০ সালে মেগা প্রকল্প হিসেবে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে ২০১২ সালের ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ও ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার করপোরেশন (এনটিপিসি)-এর মধ্যে যৌথ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তির ভিত্তিতে ‘বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড’ (বিআইএফপিসিএল) গঠিত হয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়।

ডিআর